চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা

তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ে হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ও স্থিতাবস্থা

আনোয়ারা সংবাদদাতা

২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১:০৮ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ তৈলারদ্বীপ সেতুতে নতুন করে টোল আদায়ের উদ্যোগ আপাতত থমকে গেছে। সেতুটিতে টোল আদায় এবং এ-সংক্রান্ত দরপত্র কার্যক্রমে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
 
 
গত ১৫ সেপ্টেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো.আজিজ আহমেদ ভূঁইয়ার সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
 
 
আদালত তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য জারি করা বিজ্ঞপ্তির বৈধতা নিয়ে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে ওই বিজ্ঞপ্তির আওতায় নতুন কোনো দরপত্র গ্রহণ বা খোলা, দরপত্র অনুমোদন, ইজারাদার নিয়োগ এবং ইজারা চুক্তি সম্পাদনের ওপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।
 
 
তৈলারদ্বীপ সেতুটি আনোয়ারা ও বাঁশখালীকে সংযুক্ত করে সাঙ্গু নদীর ওপর নির্মিত। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মানুষের যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। ফলে নতুন করে টোল আদায়ের উদ্যোগকে ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা,পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
 
 
রিটকারী বাঁশখালীর সমাজকর্মী ও জুলাইযোদ্ধা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন জানান, চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় থেকে গত ৬ সেপ্টেম্বর তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৯-৩০ অর্থবছর পর্যন্ত চার বছরের জন্য টোল আদায়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
 
 
তিনি বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম,পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালীসহ দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার মানুষ নিয়মিত যাতায়াত করেন। নতুন করে টোল আরোপ করা হলে সাধারণ মানুষ ও পরিবহন খাতের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই জনস্বার্থে তিনি হাইকোর্টে রিট করেন।
 
 
মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন বলেন, রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। আদালতের নির্দেশনার বিষয়টি সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে জানিয়েছি। এর আগে গত ১৭ সেপ্টেম্বর আদালতের রিটের একটি কপি সড়ক বিভাগকে দেওয়া হয়েছে। তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায় বন্ধে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
 
 
তবে আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কপি পাননি বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা।
 
 
তিনি বলেন, তৈলারদ্বীপ সেতুতে টোল আদায়ের জন্য সড়ক বিভাগ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এটি আমাদের চলমান প্রক্রিয়ার অংশ। আদালতের নির্দেশনার বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু পাইনি। নির্দেশনা পেলে তা বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 
 
আদালতের স্থিতাবস্থার নির্দেশনার ফলে হাইকোর্টের পরবর্তী আদেশ না আসা পর্যন্ত তৈলারদ্বীপ সেতুতে নতুন করে টোল আদায়ের জন্য দরপত্রসংক্রান্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপাতত বাধা থাকছে।
 
পূর্বকোণ/পিআর 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট