কাপ্তাই লেকে বর্তমানে পানি রয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৭ ফুট (মিনস সি লেভেল)। অথচ এ সময়ে পানি থাকার কথা ১০৮ ফুট। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়ার কারণে দ্রুত কমছে পানির স্তর। তাতে উদ্বেগ বাড়ছে ওয়াসার।
ওয়াসার দাবি, কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে মোট ইউনিট রয়েছে পাঁচটি। বিগত বেশ কিছুদিন ধরে সবগুলো ইউনিট খোলা থাকায় লেকের পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। তাতে আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে (নভেম্বর-মে) লেকে পানির সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। ওই সময়ে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের কমপক্ষে দুইটি ইউনিট সার্বক্ষণিক চালু রাখতে না পারলে চট্টগ্রাম শহরে পানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে ওয়াসা।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে প্রেরিত গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম এক চিঠিতে উল্লেখ করেন, কাপ্তাই লেকের পানি কমে গেলে কর্ণফুলী ও হালদায় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ বাড়বে। এতে ওয়াসার পানি শোধনাগারগুলোর উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে। বিগত বছরগুলোতে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সার্বিক প্রচেষ্টায় শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানি নিয়ন্ত্রণ করে ছাড়ার ফলে হালদা নদীতে লবণাক্ততা বৃদ্ধির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
কিন্তু চলতি বছরের জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির মজুদ বিগত বছরের তুলনায় কম রয়েছে। অন্যদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য বর্তমানে সার্বক্ষণিক সকল টারবাইন চালু আছে। এ অবস্থায় আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত কমপক্ষে দুইটি টারবাইন সার্বক্ষণিক চালু রাখা যাবে কিনা তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে হালদায় লবণাক্ততার পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং ওয়াসার পানি উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের জরুরি হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।
মূলত লেকে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পানি সংরক্ষণ করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হয়। পানি কমতে শুরু করলে পর্যায়ক্রমে ইউনিট বন্ধ করা হলেও শুষ্ক মৌসুম নভেম্বর থেকে মে পর্যন্ত অন্তত দুটি ইউনিট সচল রাখার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশনা রয়েছে। চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ আবেদন করেছিল। এর অন্যতম কারণ কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে বঙ্গোপসাগরের জোয়ারে লবণাক্ততা পানি প্রবেশ বন্ধ করা। কিন্তু এ বছর কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবগুলো ইউনিট খুলে রাখার কারণে দ্রæত লেকের পানির স্তর হ্রাস পাচ্ছে। বর্তমানে লেকে পানির স্তর প্রায় ১০৫ ফুট। অথচ অন্যান্য বছর এ সময়ে লেকের পানির স্তর আরো বেশি ছিল। তাতে দুশ্চিন্তার রয়েছে ওয়াসা।
কারণ, বর্ষা মৌসুমে লেকে পর্যাপ্ত পানি সংরক্ষণ করা না হলে শুষ্ক মৌসুমে ভয়াবহ পানি সংকট দেখা দেবে। তার প্রভাব পড়বে চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি উৎপাদনে। কারণ, ওয়াসার সবগুলো পানি সরবরাহ প্রকল্প কর্ণফুলী ও হালদা নদীর পানির ওপর নির্ভরশীল। শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেক থেকে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না থাকলে জোয়ারের সময় সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশ করবে কর্ণফুলী ও হালদায়। এতে পানি উৎপাদনে ভয়াবহ সংকটে পড়বে ওয়াসা।
জানতে চাইলে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ম্যানেজার প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান পূর্বকোণকে বলেন, ‘কাপ্তাই লেকের পাঁচ ইউনিট দিয়ে পানি ছাড়া হচ্ছে। বর্তমানে লেকে পানির স্তর রয়েছে ১০৫ দশমিক ৬৭ ফুট (মিনস সি লেভেল)।
চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী মাকসুদ আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘কাপ্তাই লেকে বর্তমানে পানির স্তর ১০৫ ফুট (মিনস সি লেভেল)। অথচ এ সময়ে থাকার কথা কমপক্ষে ১০৮ ফুট। এ অবস্থায় আগামী শুষ্ক মৌসুমে নভেম্বর-মে পর্যন্ত কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সার্বক্ষণিক দুইটি ইউনিট চালু রাখতে না পারলে কর্ণফুলী ও হালদা নদীতে লবণ পানির প্রবেশ বাড়তে পারে। তাতে ওয়াসার উৎপাদন মারাত্মক ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।’
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সেলিম মো. জানে আলম পূর্বকোণকে বলেন, ‘এ সময়ে কাপ্তাই লেকে পানির স্তর ১০৮ ফুট (মিনস সি লেভেল) থাকলে ভালো হতো। কিন্তু পানির স্তর রয়েছে ১০৫ ফুট। এ কারণে আগামী শুষ্ক মৌসুমে ওয়াসার পানি উৎপাদনে সংকট তৈরির শঙ্কা রয়েছে।’
পূর্বকোণ/ইবনুর

















