চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

কৃষি বিভাগের প্রণোদনা বাড়লেও আবাদ বাড়েনি

কৃষি বিভাগের প্রণোদনা বাড়লেও আবাদ বাড়েনি

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

২২ মে, ২০২৬ | ১১:৩১ পূর্বাহ্ণ

ভূগর্ভের পানির ব্যবহার কমাতে আউশ চাষের ওপর জোর দিয়ে আসছে কৃষি অধিদপ্তর। এজন্য আউশ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রণোদনাও বাড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেভাবে বাড়ছে না আউশ আবাদ। কর্মকর্তারা বলেন, বোরো চাষ কমিয়ে আউশ আবাদ বাড়ানোর লক্ষ্য ছিল। কারণ বোরো চাষ হচ্ছে পুরোটায় সেচনির্ভর। এ মৌসুমে ভূগর্ভ থেকে প্রচুর পানি উত্তোলন করা হয়। ভূগর্ভের পানি অস্বাভাবিকভাবে নিচে যাওয়ার কারণে এই পরিকল্পনা নিয়েছিল কৃষি অধিদপ্তর।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, ২০২০ সালে চট্টগ্রামের ১৫ উপজেলায় আউশ ধান চাষের লক্ষ্য ছিল ৪০ হাজার হেক্টর জমি। চাষ হয়েছিল ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। সাড়ে ৮ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল। এর আগের বছর (২০১৮-১৯) মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৫ হাজার হেক্টর জমি। চলতি বছর আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩শ হেক্টর জমিতে। আর ২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রামের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) মো. ওমর ফারুক পূর্বকোণকে বলেন, আউশ চাষ বাড়ানোর লক্ষ্যে ২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের বিঘাপ্রতি ৫ কেজি উফশী বীজ, ১০ কেজি করে এমওপি ও ডিএপি সার দেওয়া হয়েছে। কৃষি বিভাগের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি মৌসুমে আউশ আবাদে ২৬ হাজার কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। আর চাষাবাদের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৩শ হেক্টর জমি। ২০২১ সালে আউশ চাষ হয়েছিল ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে। প্রণোদনা দেওয়া হয়েছিল ৮ হাজার ৪শ কৃষককে। সেই হিসাবে ৫ বছরে প্রণোদনা বেড়েছে তিন গুণের বেশি। কিন্তু উল্টোপথে হেঁটেছে আউশ আবাদ। প্রণোদনা বাড়লেও আউশ আবাদ বাড়েনি। বরং কিছুটা কমেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রামে বোরো আবাদ হয়েছে ৭০ হাজার ৯৩০ হেক্টর জমি। গত বছর হয়েছিল ৬৮ হাজার ৫৪৯ হেক্টর জমি। ২০২১ সালে বোরো আবাদ হয়েছিল ৬০-৬৪ হাজার হেক্টর জমিতে। বোরোতে সেচ খরচ বেশি। তারপরও ক্রমান্বয়ে বোরো আবাদ বাড়ছে। কিন্তু প্রণোদনা বাড়িয়েও গত ৫ বছরে আউশ আবাদ বাড়ানো যাচ্ছে না।
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, ২০১৪-১৫ মৌসুমে আউশের চাষ হয়েছিল ২৮ হাজার হেক্টর জমিতে। ১৫-১৬ মৌসুমে তা বেড়ে ৩২ হাজার হেক্টরে দাঁড়ায়। ১৬-১৭ মৌসুমে ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। 
২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা :
কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে ২৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে বেশি প্রণোদনা পেয়েছে মিরসরাই, সীতাকুন্ড, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি ও বাঁশখালী উপজেলায়। মিরসরাইয়ে ৩৫শ জন, সীতাকুন্ডে ৩২শ জন, ফটিকছড়ি ও সন্দ্বীপে ২৫শ জন করে ও বাঁশখালী ২৩শ জন কৃষক প্রণোদনা পেয়েছেন। চন্দনাইশে ২২০০ জন ও আনোয়ারায় ২০০০ জন প্রণোদনা পেয়েছেন। এছাড়া হাটহাজারী, রাউজান ও রাঙ্গুনীয়াতে ৮০০ জন করে প্রণোদনা পেয়েছেন। 
লোহাগাড়ায় ১২০০ জন, সাতকানিয়ায় ১৯০০ জন প্রণোদনা পেয়েছেন। সবচেয়ে কম প্রণোদনা পেয়েছে বোয়ালখালী। ২০০ জনকে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।
পূর্বকোণ/রেহেনুমা নাসির

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট