চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

পারিবারিক বিরোধে অপহরণ মামলা: ‘অপহৃত’ কিশোরের ভিডিও বার্তায় তোলপাড়

পারিবারিক বিরোধে অপহরণ মামলা : ‘অপহৃত’ কিশোরের ভিডিও বার্তায় তোলপাড়

কক্সবাজার সংবাদদাতা

২১ মে, ২০২৬ | ১:০৩ পূর্বাহ্ণ

কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধের জেরে একটি নিরীহ পরিবারের নারী ও বৃদ্ধাসহ সবাইকে আসামি করে ‘অপহরণ ও চুরির’ মামলা দায়েরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, তাদেরকে সামাজিক ও মানসিকভাবে ধ্বংস করতেই এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা সাজানো হয়েছে।

 

সূত্রে জানা গেছে, ১২ এপ্রিল তেচ্ছিপুল মুন্সিপাড়ার জাফর আলম বাদী হয়ে তার আপন বোন রাবেয়া বশরী, ভাবি তাহেরা বেগম এবং দুই ভাতিজা আরিফ উল্লাহ ও তৈয়ব উল্লাহর বিরুদ্ধে রামু থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২ এপ্রিল আসামিরা তার ঘর থেকে ৩২ লাখ টাকা চুরি করেছে এবং তার ১৫ বছরের ছেলে নিশানকে অপহরণ করেছে।

 

তবে মামলার চার দিন পর ১৬ এপ্রিল ‘অপহৃত’ কিশোর নিশান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা দিয়ে জানায় যে, তাকে কেউ অপহরণ করেনি; বরং পারিবারিক কারণে সে স্বেচ্ছায় ঘর ছেড়েছে। এছাড়া একজন সাধারণ পানের দোকানদারের ঘরে ৩২ লাখ টাকা থাকার দাবি নিয়ে স্থানীয় মহলে ব্যাপক সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে নাছির উদ্দিন কক্সবাজার প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামু থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনোয়ার হোসেন মামলার আগেই তার প্রতিষ্ঠানে বিনা ওয়ারেন্টে তল্লাশি চালিয়েছেন এবং নাম বাদ দেওয়ার কথা বলে বড় অংকের ঘুষ দাবি করেছেন। যদিও এসআই আনোয়ার হোসেন এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছেন, তিনি নিয়মতান্ত্রিকভাবে অভিযান চালিয়েছেন এবং উদ্ধারকৃত মালামালের সঠিক তালিকা আদালতে জমা দিয়েছেন।

 

রামু থানার ওসি (তদন্ত) মো. ফরিদ জানান, একজন পানের দোকানদারের ঘরে এত বিপুল পরিমাণ টাকা থাকা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে এবং বাদীর আয়ের উৎস নিয়ে তদন্ত চলছে। এসআই আনোয়ার হোসেনও মনে করেন, ৩২ লাখ টাকার উৎসের বিষয়ে সিআইডি তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।

 

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, পুরো ঘটনাটি মূলত দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের জের। তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিকে যেন হয়রানি করা না হয় সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তার নাম চূড়ান্ত চার্জশিট থেকে বাদ দেওয়া হবে।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট