কক্সবাজার সদরের খুরুশকুলে দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে কথা কাটাকাটির জেরে ছুরিকাঘাতে জাহাঙ্গীর (৩৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) সকাল ১১টার দিকে ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেতৈয়া গুলাবাপের পাড়া এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত জাহাঙ্গীর স্থানীয় মৃত মোহাম্মদ কালুর ছেলে।
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, বুধবার সকালে জাহাঙ্গীরের ছোট ভাই আলমগীর স্থানীয় একটি জায়গায় দোকান বসানো নিয়ে একই এলাকার আরিফ নামের এক যুবকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। আলমগীর বাড়িতে ফিরে বিষয়টি জানালে বড় ভাই জাহাঙ্গীর পরিস্থিতি শান্ত করতে এবং বিস্তারিত জানতে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে তর্কবিতর্ক শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ভাতিজা সাইফুল জানান, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আরিফ, কাজল, নিশাত ও ফিরোজসহ ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মারামারির একপর্যায়ে আরিফ আচমকা ক্ষিপ্ত হয়ে জাহাঙ্গীরকে লক্ষ্য করে ধারালো ছুরি দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহাঙ্গীরকে উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পর জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ কল করা হলে কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় মূল অভিযুক্ত আরিফের মা রুবিনা এবং তার সহযোগী ফিরোজের স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাদিম আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দোকান বসানোকে কেন্দ্র করেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তিনি আরও বলেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চলছে এবং মূল অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এই ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
বর্তমানে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে এবং এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ
















