২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন স্পেন অধিনায়ক রদ্রি কোন গোল করতে পারেননি, পারেননি কোন গোলে অ্যাসিস্টও করতে। অথচ সেই রদ্রিই আসরে দুর্দান্ত পারফর্ম করে ৮ গোল ও ৪ অ্যাসিস্ট করা আর্জেন্টিাইন লিওনেল মেসিকে টপকে জিতেছেন গোল্ডেন বল। ফাইনালের পর তার নাম ঘোষণায় অবাক হয়েছিলেন সবাই। বিশ্বকাপ ইতিহাসে এর আগে মাত্র একজন খেলোয়াড় গোল ও অ্যাসিস্ট ছাড়াই গোল্ডেন বল জিতেছিলেন। তিনি ছিলেন ২০০২ সালের জার্মান গোলরক্ষক অলিভার কান। কিন্তু রদ্রি প্রথম আউটফিল্ড ফুটবলার, যিনি গোল বা অ্যাসিস্ট ছাড়াই এই মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কার জিতলেন।
এই স্পেন তারকাকেই এবার পেতে চাইছে রিয়াল মাদ্রিদ। সাবেক এই ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে রিয়াল মাদ্রিদ। ৩০ বছর বয়সী এই তারকার সঙ্গে ম্যানসিটির চুক্তি ২০২৭ সাল পর্যন্ত। তা সত্ত্বেও এনজো মারেস্কার স্কোয়াড থেকে রদ্রিকে ছিনিয়ে নিতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর আগে যদিও ক্লাবটির সূত্র ‘দ্য অ্যাথলেটিক’কে জানিয়েছিল, এবারের দলবদল উইন্ডোতে রদ্রিকে পেতে বেশি জোর দেবে না রিয়াল। পরে বিশ্বকাপ শেষ হতেই ফ্লোরেন্তিনো পেরেজের ক্লাবটি নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছে। রদ্রি নিজেও রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে তোলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন, আমি আবার স্পেনে খেলতে চাই কি না, লা লিগা, মাদ্রিদে? হ্যাঁ অবশ্যই, আমি ফিরতে চাই। অতীতে অ্যাথলেটিকোর হয়ে খেলা আমাকে রিয়াল মাদ্রিদে যুক্ত হওয়া থেকে দূরে রাখতে পারে না, এমনটা আগেও হয়েছে। হয়তো সরাসরি ট্রান্সফার নয়, তবে ঘটনার প্রেক্ষাপটে। বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের প্রস্তাব আপনি ফিরিয়ে দিতে পারেন না।
২০১৯ সালে অ্যাটলেটিকো থেকে ম্যানচেস্টার সিটিতে যোগ দেওয়ার পর রদ্রি চারটি প্রিমিয়ার লিগ, দুটি এফএ কাপ, তিনটি লিগ কাপ এবং ২০২৩ সালে চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতেছেন। সিটির হয়ে ২৯৮টি ম্যাচ খেলে ২৮টি গোল এবং ৩২টি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। রদ্রির আগমন সম্ভবত এই গ্রীষ্মে মাদ্রিদ সমর্থকদের জন্য সবচেয়ে রোমাঞ্চকর খবর হতে যাচ্ছে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সভাপতি পেরেজ এবং জেনারেল ম্যানেজার হোসে সানচেজ তাকে দলে ভেড়ানোর বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন, মাদ্রিদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের এই মত পরিবর্তন ছিল সমর্থকদের দীর্ঘদিনের দাবি। যদিও দীর্ঘদিন পর বার্নাব্যুতে ফিরে কোচ জোসে মরিনহো সরাসরি রদ্রিকে দলে নেওয়ার অনুরোধ করেননি, তবুও তার আগমন এমন একটি জায়গা শক্তিশালী করবে যেখানে পর্তুগিজ কোচ নতুন খেলোয়াড় চেয়েছিলেন। সহজেই অনুমান করা যায় যে, রদ্রির খেলার ভারসাম্য ও বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ দলকে বাড়তি শক্তি জোগাবে।
পূর্বকোণ/কিরণ/পারভেজ















