চট্টগ্রাম রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাংলাদেশ যাতে অলিম্পিকে অংশ নিতে পারে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে

বাংলাদেশ যাতে অলিম্পিকে অংশ নিতে পারে সেই প্রস্তুতি শুরু হয়েছে

অনলাইন ডেস্ক

২৬ জুলাই, ২০২৬ | ৭:৫২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশ যাতে অলিম্পিকের মতো একটি বড় আসরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে, অংশগ্রহণ করতে পারে সেভাবে সরকার প্রস্তুতি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। সেই অলিম্পিকের যাত্রা জিরো থেকে শুরু করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

রবিবার (২৬ জুলাই) সদ্য সমাপ্ত বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬ সম্প্রচার বিষয়ে মতবিনিময় সভায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনও উপস্থিত ছিলেন।

 

এতে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বিনাখরচে ও সফলভাবে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলা সম্প্রচারের জন্য তথ্যমন্ত্রী, তথ্য প্রতিমন্ত্রীসহ তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ধন্যবাদ জানান। সচিবালয় তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

 

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সফলভাবে আমরা দেশবাসীর কাছে এই বিশ্বকাপ ফুটবলটিকে উপস্থাপন করতে পেরেছি। এজন্য আমি আমার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে, দেশবাসীর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ এবং বিটিভি বা অন্যান্য যারা স্টেকহোল্ডার এই কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং আমার প্রিয় সাংবাদিক ভাইরা, সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

তিনি বলেন, খেলাধুলাকে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ও বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং তার ধারাবাহিকতায় আপনারা ইতোমধ্যে দেখতে পেয়েছেন যে আমরা খেলাধুলাকে পেশাদারিত্বের আওতায় আনার জন্য পেশাগত স্বীকৃতি বাবদ আমরা আমাদের প্রায় ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ইতোমধ্যে ক্রীড়া ভাতায় অন্তর্ভুক্ত করেছি। আগামী এক মাসের ভেতরে আরও ২০০ জন ক্রীড়াবিদ, কোচ, ট্রেনার, আমাদের রেফারি যারা রয়েছেন, যারা বর্তমানে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করছেন, আমরা সেই মানুষগুলোকেও আমাদের এই ক্রীড়া ভাতার আওতায় এনে সবার ভেতরে একটি পেশাদারিত্বের জায়গা তৈরি করতে চাই। কারণ আমাদের বর্তমান সমাজে প্রত্যেকটি সন্তান, প্রত্যেকটি বাবা-মা তারা চান যে পড়াশোনা করে কেউ ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, কেউ ব্যারিস্টার, কেউ সরকারি চাকরিজীবী হবে। খেলোয়াড় হবে এই ধরনের মানসিকতা কিন্তু আমরা এখনো আমাদের বাবা-মায়েদের ভেতরে তৈরি করতে পারিনি। আমি যখন খেলেছি, আমরা যখন ভালো খেলেছি তখন আমাদের বাবা বলেছেন, এবার তোমরা খেলতে পারো। আমরা কিন্তু কোনো লক্ষ্য স্থির করে খেলিনি যে আমি একজন ফুটবলার হব। আমরা সেই লক্ষ্যটি স্থির করতে চাই, প্রত্যেকটি বাবার ভেতরে, প্রত্যেকটি সন্তানের ভেতরে, প্রত্যেকটি ক্রীড়াবিদের ভেতরে যে তারা কেউ ফুটবলার হবে, কেউ ক্রিকেটার হবে, কেউ সাঁতারু হবে, কেউ হ্যান্ডবল খেলোয়াড় হবে, কেউ দাবা প্লেয়ার হবে। এভাবে কেউ কাবাডি খেলোয়াড় হবে, কেউ মার্শাল আর্ট করবে, এভাবে লক্ষ্য স্থির করে… ইতোমধ্যে আমরা কার্যক্রম শুরু করেছি।

 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গত দুদিন আগে আমাকে বলছিলেন যে আমরা অলিম্পিকে কবে পদক পাব। সেই অলিম্পিকের যাত্রা কিন্তু আমি মনে করি আমরা জিরো থেকে শুরু করেছি। কারণ আমাদের এই নতুন কুঁড়ির যারা ১০ থেকে ১২ বছর বাচ্চারা রয়েছে, আমাদের কিশোর-কিশোরীরা রয়েছে তাদেরকে দিয়েই কিন্তু… আমরা বলছি না যে আমরা রাতারাতি চেঞ্জ করে ফেলতে পারব। এটাতে পাঁচ বছর কিংবা তার চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে, ১০ বছর লাগতে পারে, কিন্তু আমরা শুরুটা করেছি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের মাধ্যমে। এখান থেকে যেসব প্রতিভাবান খেলোয়াড় বের হয়ে আসবে আমরা সরকারি খরচে বিকেএসপিতে তাদের পড়াশোনা, খেলাধুলার সব দায়িত্বভার গ্রহণ করব। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের আমরা সংগ্রহ করব। এখান থেকে যে খেলোয়াড়রা বের হয়ে আসবে তাদের আমরা আগামীর বাংলাদেশের অলিম্পিকে যাতে পার্টিসিপেট করতে পারে সেই ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে এখন থেকেই প্রস্তুত করব ইনশাআল্লাহ।

 

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা দীর্ঘমেয়াদি একটি পরিকল্পনা হাতে নিচ্ছি, যাতে আগামী পাঁচ বছর পরে গিয়ে আমরা অলিম্পিকের মতো একটি বড় আসরে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারি, আমরা অংশগ্রহণ করতে পারি সেভাবে আমরা প্রস্তুতি নিয়েছি।

 

সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, সবার সহযোগিতায় আমরা সফল একটি বিশ্বকাপ ফুটবল এ দেশের মানুষের কাছে উপহার দিতে পেরেছি, দেখানোর মাধ্যমে, এজন্য ধন্যবাদ। বিগত সরকার যেভাবে এই ফুটবল খেলা দেখানোকে কেন্দ্র করে এক ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছে, আমরা সেই দুর্নীতিকে দমন করে এই প্রথম বিনামূল্যে বলেন, বিনাখরচে বলেন, সফলভাবে দুর্নীতিমুক্ত হয়ে ফুটবল বিশ্বকাপের মতো বড় আসর বাংলাদেশের জনগণের কাছে উপহার দিতে পেরেছি। এই কারণে আমি প্রধানমন্ত্রীকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এবং আমাদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিবসহ বিটিভির সব কর্মকর্তা, সাংবাদিক ভাইরা সবাইকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন