চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার আসল ঘটনা কী: অ্যাটর্নি জেনারেলের বর্ণনা

প্রধান বিচারপতির এজলাস ছাড়ার আসল ঘটনা কী: অ্যাটর্নি জেনারেলের বর্ণনা

অনলাইন ডেস্ক

৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৬:০২ অপরাহ্ণ

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের একটি মন্তব্যের জেরে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চের আকস্মিক এজলাস ত্যাগের ঘটনা নিয়ে সৃষ্টি হওয়া চাঞ্চল্যের মধ্যে মুখ খুলেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি তুলে ধরেছেন ঠিক কী পরিস্থিতির কারণে বিচারকদের এই কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছিল এবং এর পেছনে মূলত কোন ঘটনাটি কাজ করেছিল।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অ্যাটর্নি জেনারেল বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি দাবি করেছিলেন যে তিনি আইনজীবীদের কল্যাণের স্বার্থে প্রধান বিচারপতির কাছে কিছু কথা বলেছেন। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এজলাসে সে ধরনের কোনো সাধারণ কল্যাণমূলক আলোচনা হয়নি; বরং আদালতের সঙ্গে গুরুতর প্রতারণা এবং একটি মামলার তথ্য গোপনের বিষয় আড়াল করতেই ওই প্রসঙ্গটি টানা হয়েছিল।

অ্যাটর্নি জেনারেলের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালের একটি কাজি নিয়োগ সংক্রান্ত ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই বিরোধের সূত্রপাত। একই আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে মামলার বাদীপক্ষ একের পর এক মোট পাঁচটি রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন। বিশেষ বিষয় হলো, আগের রিটগুলো খারিজ বা রিজেক্ট হয়ে যাওয়ার তথ্যটি পরবর্তী রিটগুলোতে সুকৌশলে গোপন করা হয়েছিল। একে বিচারিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে ‘গুরুতর প্রতারণা’ বা ‘সিরিয়াস ফ্রড’ হিসেবে উল্লেখ করে আপিল বিভাগ সংশ্লিষ্ট নারী আইনজীবী এবং মামলার বাদী উভয়কেই ৫ লাখ টাকা করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করেন। আদালত নির্দেশ দেন যে এই জরিমানার পুরো অর্থ সুপ্রিম কোর্টের মাধ্যমে ঢাকা শিশু হাসপাতালে জমা দিতে হবে।

সংশ্লিষ্ট মামলার রেকর্ড ও উপস্থিতির বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ওই মামলার আদেশটি দেওয়া হয়েছিল মঙ্গলবার সকাল সোয়া নয়টার দিকে। তখন ওই নারী আইনজীবী তাঁর পাশেই বসা ছিলেন এবং তিনি নিজ কানে আদেশটি শুনেছিলেন। অথচ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ওই সময় এজলাসে উপস্থিত ছিলেন না।

এজলাসে ঠিক যেভাবে বাকবিতণ্ডার শুরু

মূল ঘটনার অবতারণা হয় দুপুর ১২টা ৩৫ মিনিটের দিকে। অন্য একটি মামলার শুনালিকালে মাহবুব উদ্দিন খোকন হঠাৎ করেই ওই জরিমানার প্রসঙ্গটি উত্থাপন করেন এবং বলেন যে একজন আইনজীবীকে আর্থিকভাবে দণ্ডিত করা হয়েছে।

তখন প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, আদালত সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেই ওই আদেশ দিয়েছেন এবং এই আদেশ পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। কারণ, আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে আদালতের সঙ্গে গুরুতর প্রতারণা করা হয়েছে এবং সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ববর্তী আদেশ থেকেও তথ্য গোপন করা হয়েছে। এই যুক্তির পর প্রধান বিচারপতি খোকনকে বিষয়টি নিয়ে আর না বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

অ্যাটর্নি জেনারেল জানান, ঠিক এই পর্যায়ে অত্যন্ত অপ্রত্যাশিতভাবে মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রধান বিচারপতিকে লক্ষ্য করে মন্তব্য করেন, ‘আপনি প্রধান বিচারপতি হওয়ার পরে আইনজীবীদের ইনকাম কমে গেছে’।

প্রধান বিচারপতি শুরুতে বিষয়টিকে কিছুটা হালকাভাবে নেওয়ার চেষ্টা করলেও মাহবুব উদ্দিন খোকন যখন একই কথা পুনরায় জোর দিয়ে বলার চেষ্টা করেন, তখন পরিস্থিতি পাল্টে যায়। প্রধান বিচারপতি তখন স্পষ্ট ভাষায় তাঁকে সতর্ক করে বলেন, ‘আপনি যে কথাটা বলেছেন, সেটা অ্যাবসলিউটলি আদালত অবমাননার শামিল।’ এরপর তিনি যোগ করেন, ‘যেহেতু আপনি এত বড় একটা কথা বলেছেন, আমি আজকে আর আদালতের কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করব না।’ এই কথা বলেই প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বেঞ্চের পাঁচ বিচারপতির সবাই তাৎক্ষণিকভাবে এজলাস ত্যাগ করেন।

 

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট