নেপালের হিমালয়ঘেরা জনপদে গত বুধবারের ভয়াবহতা আমাদের সামনে আবারও একটি নির্মম সত্যকে স্পষ্ট করে তুলেছে- প্রকৃতিকে অবহেলা করে কোনো সভ্যতা নিরাপদ থাকতে পারে না। বরফে ঢাকা যে পাহাড় যুগের পর যুগ নদীর জন্ম দিয়েছে, যে হিমবাহ কোটি মানুষের পানির উৎস হিসেবে কাজ করেছে, যে বন পাহাড়ের মাটিকে আঁকড়ে ধরে রেখেছে এবং যে নদী মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত, সেই প্রকৃতিই যখন তার স্বাভাবিক ভারসাম্য হারাতে শুরু করে, তখন মানুষের নির্মিত সবকিছু মুহূর্তের মধ্যে বিপন্ন হয়ে পড়তে পারে। পাহাড়ের বুক চিরে নেমে আসা পানি, পাথর, কাদা, বরফ ও ধ্বংসাবশেষের স্রোত একটি জনপদের ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও অবকাঠামোকে চোখের পলকে ধ্বংস করে দিতে পারে। আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রকৌশল যতই উন্নত হোক না কেন, পৃথিবীর মৌলিক প্রাকৃতিক শক্তির সামনে মানুষ এখনো যে অত্যন্ত অসহায়, তা নেপালের এই বিপর্যয় আরেকবার প্রমাণ করে দিলো।
সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে দেখা যাচ্ছে, হিমালয়ের শান্ত উপত্যকায় গত বুধবার আকস্মিক নেমে এসেছিল এই মৃত্যুস্রোত। কয়েক মুহূর্তের মধ্যে বরফ, পাথর, কাদা ও পানির বিশাল স্রোত গ্রাম, সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সীমান্ত অবকাঠামো ধ্বংস করে দেয়। প্লানেট ল্যাবসের উপগ্রহ চিত্রের ভিত্তিতে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, হিমালয়ের একটি হিমবাহের নিচের অংশ ভেঙে উপত্যকায় আছড়ে পড়ার ফলেই এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের সূত্রপাত। তবে হিমবাহটি কেন ভেঙে পড়ল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতা থেকে একটি হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে আনুমানিক এক হাজার ২০০ মিটার নিচে উপত্যকার তলদেশে আছড়ে পড়ে। এই দুর্যোগের সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, মানুষকে নিরাপদে সরে যাওয়ার মতো প্রায় কোনো সময়ই দেওয়া হয়নি। হিমবাহের বড় একটি অংশ ধসে পড়ার পর বিপুল বরফ ও পাথর নিচের উপত্যকায় নেমে আসে। পরে এগুলো নদীর পানির সঙ্গে মিশে বিশাল ধ্বংসস্রোত তৈরি করে। সেই স্রোত প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০ মিটার গতিতে ২০ কিলোমিটারের বেশি পথ অতিক্রম করে। কোথাও কোথাও মাত্র আধা ঘণ্টায় নদীর পানির উচ্চতা প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়। দুর্যোগবিশেষজ্ঞদের অনেকের দাবি, এমন ভয়াবহ পরিস্থিতিতে কয়েক মিনিটের আগাম সতর্কতাও অনেক মানুষের জীবন বাঁচাতে পারত। তাদের মতে, এ ধরনের দুর্যোগ পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও প্রাণহানি কমানো যেত, যদি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ ও পূর্বপ্রস্তুতি থাকতো। দুর্যোগব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে যে আমাদের চিন্তার ধরন বদলাতে হবে, তা এই ট্রাজিডি চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গতকাল জানিয়েছে, ভয়াবহ এই ঘটনায় কেবল নেপালেই মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৩৮ জনে। ২৫০০ জনেরও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে পর্যটক, তীর্থযাত্রী ও স্থানীয় শ্রমিকরা অন্তর্ভুক্ত। উদ্ধারকাজ এখনো চলছে। ফলে হতাহত ও নিখোঁজ মানুষের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নেপালের এই বিপর্যয় শুধু একটি পাহাড়ি দুর্যোগ নয়; এটি মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি বড় তাগিদ। আমরা কি প্রকৃতিকে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়ন করছি, নাকি উন্নয়নের নামে প্রকৃতির স্বাভাবিক কাঠামো ধ্বংস করছি? প্রশ্নটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশ্নটি নেপালের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, ভারত-বাংলাদেশসহ সব জলবায়ু ও দুর্যোগপ্রবণ দেশের জন্যও তেমনই গুরুত্বপূর্ণ। আর হিমালয়কে শুধু একটি পর্বতমালা হিসেবে দেখলে এর গুরুত্ব বোঝা যাবে না। এটি দক্ষিণএশিয়ার বিশাল একটি প্রাকৃতিক জলভাণ্ডার। হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহ থেকে উৎপন্ন অসংখ্য নদী নেপাল, ভারত, ভুটান ও বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে যুক্ত। পাহাড়ে বরফ জমে, সেই বরফ ধীরে ধীরে গলে নদীর জন্ম দেয়, নদী পাহাড় থেকে সমতলে পানি নিয়ে আসে এবং শেষপর্যন্ত সেই পানি গিয়ে মেশে বঙ্গোপসাগরে। এই পুরো প্রক্রিয়া একটি আন্তঃসংযুক্ত প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। তাই হিমালয়ের কোনো পরিবর্তন শুধু পাহাড়ে সীমাবদ্ধ থাকে না; তার প্রভাব বহুদূরের সমতল, কৃষি, নদী, জনবসতি ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে। প্রসঙ্গত, হিমবাহ কোনো মৃতবরফের স্তূপ নয়; এটি একটি জীবন্ত ও পরিবর্তনশীল প্রাকৃতিক ব্যবস্থা। বছরের পর বছর তুষার জমে চাপের কারণে বরফের স্তর তৈরি হয় এবং তা ধীরে ধীরে নিচের দিকে অগ্রসর হয়। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যেও পরিবর্তন আসে। বরফ গলার হার বেড়ে যেতে পারে, হিমবাহের আশপাশে পানি জমে হ্রদ তৈরি হতে পারে এবং সেই হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ কোনো কারণে দুর্বল হয়ে গেলে আকস্মিকভাবে বিপুল পরিমাণ পানি নিচের দিকে নেমে আসতে পারে। সেই পানির সঙ্গে যখন বরফ, পাথর, মাটি, গাছপালা ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ যুক্ত হয়, তখন তা ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করতে পারে। আমাদের এ কথাটিও মনে রাখতে হবে, প্রকৃতি কাউকে শাস্তি দেওয়ার জন্য এমন আচরণ করে না। প্রকৃতির নিজস্ব নিয়ম রয়েছে। বিপদ তৈরি হয় তখনই, যখন মানুষ সেই নিয়মকে উপেক্ষা করে নিজের প্রয়োজনকে প্রকৃতির প্রয়োজনের ওপর চাপিয়ে দেয়। পাহাড়ের ঢাল মানুষের কাছে হয়তো খালি জমি মনে হতে পারে, কিন্তু প্রকৃতির কাছে সেটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থা। পাহাড়ের গাছের শিকড় মাটিকে ধরে রাখে, বন বৃষ্টির পানি শোষণ করে এবং অতিরিক্ত পানির প্রবাহ কমিয়ে দেয়। ফলে একটি পাহাড় যখন সবুজ থাকে, তখন সেটি শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়; এটি একটি প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। কিন্তু পাহাড় কেটে ফেলা হলে, গাছপালা সরিয়ে দেওয়া হলে, ঢালের ওপর অপরিকল্পিত স্থাপনা তৈরি হলে এবং প্রাকৃতিক পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করে দেওয়া হলে পাহাড় তার স্বাভাবিক প্রতিরোধক্ষমতা হারায়। প্রবল বৃষ্টির সময় তখন মাটি দ্রুত নরম হয়ে যায়, ঢাল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং ভূমিধসের আশঙ্কা বেড়ে যায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা মাটি ও পাথর নদীর পানির সঙ্গে মিশে আরও ভয়াবহ স্রোত তৈরি করতে পারে। ফলে একটি প্রাকৃতিক ঝুঁকি মানুষের কর্মকাণ্ডের কারণে বড়ধরনের দুর্যোগে পরিণত হয়।
তবে এই বাস্তবতা শুধু হিমালয়কন্যা নেপাল নয়, বাংলাদেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম, পার্বত্যচট্টগ্রাম ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে বর্ষাকালে ভূমিধসের ঘটনা নতুন নয়। অতিবৃষ্টি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলেও পাহাড়কাটা, বনউজাড়, অপরিকল্পিত বসতি, রাস্তা নির্মাণ এবং পানিনিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বন্ধ করে দেওয়াসহ নানা তৎপরতা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে আমরা অনেক সময় পাহাড়ধসের পর শুধু বৃষ্টিকে দায়ী করি। কিন্তু নিজেদের কর্মকাণ্ডের দায় স্বীকার করতে চাই না। আমরা বিবেচনায় নিই না- একটি গাছ কেটে ফেলা মানে শুধু একটি গাছ হারানো নয়। সেই গাছের সঙ্গে যুক্ত থাকে পাখির বাসা, কীটপতঙ্গের আবাস, মাটির জীববৈচিত্র্য এবং একটি ছোট্ট বাস্তুতন্ত্র। গাছের শিকড় মাটি ধরে রাখে এবং বৃষ্টির পানি শোষণে সাহায্য করে। বন ধ্বংস হলে মাটির ক্ষয় বাড়ে, পাহাড়ের স্থিতিশীলতা কমে এবং অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসে। সেই মাটি নদী ও খালে গিয়ে জমে নদীর ধারণক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। পরবর্তী বৃষ্টিতে তখন বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি আরও বাড়ে। অর্থাৎ একটি গাছ কাটা কখনোই শুধু একটি গাছ কাটার ঘটনা নয়। একটি পাহাড় কাটা শুধু মাটি সরানোর ঘটনা নয়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান অন্য উপাদানের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। একটি বন ধ্বংস করলে শুধু গাছ হারায় না; হারায় প্রাণীর আবাস, মাটির স্থিতিশীলতা, পানি ধারণক্ষমতা এবং কার্বন শোষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তাই বন সংরক্ষণ শুধু পরিবেশপ্রেমীদের দাবি নয়; এটি মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বাড়ার অর্থ শুধু গরমের দিন বেড়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে বদলে যেতে পারে বরফ গলার সময়, বৃষ্টিপাতের ধরন, নদীর প্রবাহ এবং চরম আবহাওয়ার প্রকৃতি। তাই নেপালের এই ঘটনা শুধু পরিবেশের প্রশ্ন নয়; এটি জলবায়ু ন্যায়বিচারের প্রশ্নও সামনে আনে। হিমালয়ের পরিবর্তন এবং বঙ্গোপসাগরের পরিবর্তনকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পাহাড়ের পানি শেষপর্যন্ত সমতলে আসে, নদী দিয়ে প্রবাহিত হয় এবং সাগরে গিয়ে মেশে। প্রকৃতি মানুষের তৈরি রাজনৈতিক সীমান্ত মানে না। নদী কোনো দেশের পাসপোর্ট বহন করে না, মেঘের কোনো জাতীয়তা নেই এবং বরফ গলার পানিও সীমান্তের রেখা অনুসরণ করে না। তাই দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশগত নিরাপত্তার জন্য আঞ্চলিক সহযোগিতা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ। আমাদের জীবন নদী, খাল, বিল, হাওর, জলাভূমি ও উপক‚লীয় পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। উজানে বৃষ্টি হলে তার প্রভাব ভাটিতে পড়ে। নদীতে অতিরিক্ত পলি এলে বদলে যেতে পারে নদীর গতিপথ ও ধারণক্ষমতা। জলাভূমি ভরাট হলে বৃষ্টির পানি ধারণের জায়গা কমে যায়। পাহাড় কেটে ফেললে ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়ে। অর্থাৎ প্রকৃতিকে খণ্ডিত করে দেখলে বাংলাদেশের পরিবেশগত ঝুঁকি বোঝা সম্ভব নয়। আমাদের উন্নয়নের ধারণাটিও নতুন করে ভাবতে হবে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নকে কংক্রিটের ভবন, প্রশস্ত সড়ক, সেতু, শিল্পকারখানা ও নতুন স্থাপনার সঙ্গে মেপেছি। কিন্তু একটি শহরের খাল ভরাট করে পরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে, পাহাড় কেটে পরে ভ‚মিধস হলে কিংবা নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে পরে বন্যা দেখা দিলে সেই উন্নয়ন কতটা টেকসই- এই প্রশ্ন আমাদের করতেই হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাতেও পরিবর্তন প্রয়োজন। দুর্যোগ ঘটার পর ত্রাণ দেওয়ার পাশাপাশি দুর্যোগের আগেই ঝুঁকি কমানোর ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। আধুনিক স্যাটেলাইট, রাডার, ড্রোন, সেন্সর, আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভ‚মিধস, পাহাড়ি ঢল কিংবা অন্যান্য ঝুঁকির আগাম সংকেত শনাক্ত করা সম্ভব। তবে প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। একজন পাহাড়ি কৃষক বা স্থানীয় বাসিন্দা অনেক সময় প্রকৃতির সূ² পরিবর্তন সবার আগে বুঝতে পারেন। বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও স্থানীয় অভিজ্ঞতার সমন্বয় দুর্যোগ মোকাবিলাকে আরও কার্যকর করতে পারে।
নেপাল-ট্র্যাজেডির সবচেয়ে গভীর শিক্ষা একটাই- প্রকৃতিকে জয় করা নয়, প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করাই মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ। দুর্যোগের পর ত্রাণ দেওয়ার চেয়ে দুর্যোগের আগে প্রকৃতিকে রক্ষা করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভেঙে যাওয়া সেতু পুনর্নির্মাণের চেয়ে কেন সেতুটি ভেঙেছিল তা বোঝা জরুরি। পাহাড়ধসের পর মাটি সরানোর চেয়ে পাহাড় কেন দুর্বল হয়েছিল তা জানা বেশি প্রয়োজন। নদী উপচে পড়ার পর বাঁধ উঁচু করার চেয়ে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ কেন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তা বোঝা জরুরি। আজ যদি আমরা একটি পাহাড় রক্ষা করি, আগামী দিনের কোনো পরিবার হয়তো ভূমিধস থেকে বেঁচে যাবে। আজ যদি একটি বন রক্ষা করি, কোনো একটি নদী হয়তো আরও স্বাভাবিক থাকবে। আজ যদি একটি জলাভূমি বাঁচাই, আগামী বর্ষায় কোনো শহর হয়তো জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা পাবে। আজ যদি নদীর জায়গা ফিরিয়ে দিই, আগামী প্রজন্ম হয়তো আরও নিরাপদ একটি ভূখণ্ড পাবে। প্রকৃতি হয়তো প্রতিশোধ নেয় না, কিন্তু প্রকৃতির নিয়ম অমান্য করলে তার পরিণতি এড়ানো যায় না। তাই আমাদের উচিত হবে- উন্নয়নের সংজ্ঞা বদলানো; পাহাড়কে পাহাড়, নদীকে নদী, বনকে বন এবং জলাভ‚মিকে জলাভূমি হিসেবে সম্মান করা। কারণ শেষপর্যন্ত মানুষের নিরাপত্তা প্রকৃতির নিরাপত্তার সঙ্গেই অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে আছে। প্রকৃতিকে জয় করার কোনো পথ নেই; মানুষের প্রকৃত বিজয় হবে তখনই, যখন সে প্রকৃতির সঙ্গে পথ চলতে শিখবে।
লেখক: সাংবাদিক, পরিবেশ-মানবাধিকারকর্মী।
পূর্বকোণ/ইবনুর


















