আসন্ন ‘হাই হলি ডেজ’ ও সংঘাতের বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে নিরাপত্তা হুমকির আশঙ্কায় বাংলাদেশসহ নির্দিষ্ট কিছু দেশে নাগরিকদের ভ্রমণ না করার কড়া পরামর্শ দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের (এনএসসি) সাম্প্রতিক এক জরুরি সতর্কতা বার্তায় এই তথ্য জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তা মূল্যায়নে উচ্চ ঝুঁকির দেশ হিসেবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশ ছাড়াও এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় রাখা হয়েছে পাকিস্তান, সোমালিয়া, আফগানিস্তান, লিবিয়া ও আলজেরিয়ার মতো রাষ্ট্রগুলোকে। এনএসসি বিশেষভাবে সতর্ক করে জানিয়েছে যে, হামাসের ৭ অক্টোবরের হামলার আসন্ন বার্ষিকীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও তীব্র হতে পারে, যা বিদেশে অবস্থানরত ইসরায়েলিদের জন্য বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি তৈরি করতে পারে। প্রধানত ইরান এবং দেশটির মিত্র প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বৈশ্বিক তৎপরতাকেই এই হুমকির মূল উৎস হিসেবে চিহ্নিত করেছে ইসরায়েলি গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিদেশে অবস্থানরত সাধারণ ইসরায়েলি নাগরিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে কঠোর কিছু নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রকাশ্যে কোনো ধরনের ইসরায়েলি বা ইহুদি পরিচয় বহনকারী ধর্মীয় বা জাতীয় প্রতীক প্রদর্শন থেকে বিরত থাকা। পাশাপাশি যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক বিক্ষোভ, জমায়েত ও সংঘাতের স্থান থেকে দূরে অবস্থান করা এবং ইহুদিদের প্রধান সমাবেশস্থলগুলোর আশপাশে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থা বজায় রাখার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বর্তমান অবস্থান বা রিয়েল-টাইম লোকেশন তাৎক্ষণিকভাবে শেয়ার করা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা এবং বিদেশ ভ্রমণের সময় চারপাশের পরিবেশ ও পরিস্থিতির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রেখে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছে এনএসসি। বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রভাব বিশ্বজুড়ে প্রবাসী নাগরিকদের নিরাপত্তায় কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, এই সতর্কতা তারই একটি স্পষ্ট প্রতিফলন।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ



















