ফিলিস্তিনের পক্ষে সোচ্চার হওয়ার খেসারত হিসেবে হলিউডে নিজের কাজ হারানোর কথা জানিয়েছেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী সুজান সারান্ডন। সম্প্রতি ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে তাঁর নতুন সিনেমা ‘দ্য ইকো চেম্বার’-এর প্রচারণায় অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এই তথ্য প্রকাশ করেন তিনি।
৭৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, ফিলিস্তিনের পক্ষে মুখ খোলার কারণে চলচ্চিত্র অঙ্গনের অনেকে এখন তাঁকে এড়িয়ে চলছেন। সম্প্রতি তাঁর হাতের কয়েকটি সিনেমার কাজও কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং কিছু ট্যালেন্ট এজেন্সি এখনো মানুষকে তাঁকে কাজে না নেওয়ার জন্য চাপ দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে ইন্ডাস্ট্রির এই বয়কটের মুখেও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রচুর ভালোবাসা ও সমর্থন পাচ্ছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ফিলিস্তিন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এবং আমেরিকার রাজনীতির সঙ্গে জায়নবাদের সম্পর্ক নিয়েও কথা বলেন সারান্ডন। তাঁর মতে, ফিলিস্তিনের প্রকৃত ইতিহাস এবং মার্কিন রাজনীতির ভেতরের সমীকরণ নিয়ে সাধারণ মানুষের ধারণায় এখন বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে ঠিক কী পরিমাণ আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, সেটিও এখন অনেকের কাছে পরিষ্কার হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী।
এর আগে ২০২৩ সালে ইসরায়েলে হামাসের হামলার এক মাস পর একটি ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যের জেরে তাঁকে বাদ দিয়েছিল শীর্ষস্থানীয় ট্যালেন্ট এজেন্সি ইউটিএ। ওই সময় তাঁর একটি মন্তব্য নিয়ে হলিউড ও মার্কিন মিডিয়ায় ব্যাপক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’ চলচ্চিত্রে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য অস্কার জয় করা সুজান সারান্ডন ক্যারিয়ারে ‘দ্য রকি হরর পিকচার শো’, ‘বুল ডারহাম’ ও ‘থেলমা অ্যান্ড লুইজ’-এর মতো জনপ্রিয় ও ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছেন।
এদিকে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবে সুজান সারান্ডনের যে নতুন সিনেমাটি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেটির নাম ‘দ্য ইকো চেম্বার’। আন্দ্রেয়া পাল্লাওরো পরিচালিত এই সিনেমাটিতে সারান্ডনকে একজন গায়িকার চরিত্রে দেখা যাবে। গল্পে তাঁর চরিত্রটি মাদকাসক্তি থেকে সেরে ওঠা এক সংগীত প্রযোজককে নিয়ে নতুন একটি অ্যালবাম তৈরির উদ্যোগ নেয়। ভেনিস উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘গোল্ডেন লায়ন’-এর জন্য প্রতিযোগিতা করছে সিনেমাটি, আর আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এই আসরের বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















