সৌদি আরবের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বাহা অঞ্চলের ‘আল-মাল্লামাহ’ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে হিজরি প্রথম শতাব্দীর একটি মসজিদের সন্ধান পেয়েছে দেশটির হেরিটেজ কমিশন। এ আবিষ্কার সৌদির প্রারম্ভিক ইসলামী স্থাপত্য ও ধর্মীয় ইতিহাস সম্পর্কে নতুন তথ্য দিচ্ছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
দেশটির হেরিটেজ কমিশন জানিয়েছে, বাহা অঞ্চলের প্রাচীন খনি ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান আল-মাল্লামাহতে চতুর্থ পর্যায়ের খননকাজের সময় মসজিদটির সন্ধান পাওয়া যায়। এটি ওই এলাকার আবাসিক অংশের পশ্চিম পাশে অবস্থিত।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মসজিদটি সুবিন্যস্ত গ্রানাইট পাথর দিয়ে নির্মিত। এর স্থাপত্যে সরলতা ও নিখুঁত নকশার সমন্বয় দেখা যায়। বিশেষ করে মেহরাব, প্রবেশপথ ও মিনারের নকশায় প্রাচীন নির্মাণশৈলীর বৈশিষ্ট্য ফুটে উঠেছে।
মসজিদটির দেয়াল উত্তর থেকে দক্ষিণে প্রায় ১৬ মিটার এবং পূর্ব থেকে পশ্চিমে ১০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। এর পাশে পাথরের তৈরি কয়েকটি কক্ষও পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এসব কক্ষ পণ্য সংরক্ষণসহ সামাজিক ও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত হতো।
খননকাজে সোাপস্টোন ও মাটির পাত্রের ভগ্নাংশসহ বিভিন্ন প্রত্নবস্তু পাওয়া গেছে। এছাড়া পাথরের তৈরি হামানদিস্তা ও শীল-পাটার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব নিদর্শন ওই এলাকার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাপন ও কারুশিল্প সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছে।
আল-মাল্লামাহ বাহা অঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। ঐতিহাসিকভাবে এ এলাকা সোনা, রুপা ও তামার আকরিক উত্তোলনের জন্য পরিচিত ছিল।
এর আগে সংগৃহীত জৈব নমুনার পরীক্ষাগার বিশ্লেষণে জানা যায়, আল-মাল্লামাহতে খনিজ উত্তোলনের কার্যক্রম প্রাক-ইসলামি যুগ থেকেই শুরু হয়েছিল। ষষ্ঠ শতাব্দীর শেষভাগ থেকে নবম শতাব্দী পর্যন্ত এ অঞ্চলে খনিজ কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত ছিল।
হেরিটেজ কমিশন জানিয়েছে, সৌদি আরবজুড়ে প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ ও খননকাজ অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আবিষ্কৃত ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ ও নথিবদ্ধ করার কাজও চলবে।
পূর্বকোণ/আদর
















