শহরতলী বোয়ালখালীর সঙ্গে চট্টগ্রাম শহরের যোগাযোগে কোনো গণপরিবহন নেই। সিএনজি ট্যাক্সি বা টেম্পোই একমাত্র মাধ্যম। কিন্তু ছোট এই পরিবহনে টোকেন ব্যবসা থেকে শুরু করে নানা নৈরাজ্য দীর্ঘদিনের। এসব কারণে বোয়ালখালীবাসীকে প্রতিনিয়ত নানা হয়রানি ও বাড়তি ভাড়া গুনতে হচ্ছে।
গত শুক্রবার রাত ৯টা ও রবিবার দুপুর দেড়টার দিকে বোয়ালখালী গোমদন্ডী গ্রামের বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক। দুই দিনই ট্যাক্সিচালকেরা জানতে চান প্রতিবেদকের নামে (সাংবাদিক) কোনো ট্যাক্সি চলাচল করে কিনা। তারা জানালেন, এই রুটে সাংবাদিক আর পুলিশের টোকেন অর্থাৎ নামে চলে সিএনজি ট্যাক্সি। না হলে ট্যাক্সি আটক করে জব্দ করা হয়। তখন ৬-৮ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। তাই মাসিক টোকেন করে ফেলাই ভালো। সাংবাদিক বা পুলিশকে মাসে দুই হাজার টাকা দিয়ে টোকেন নিতে হয়।
ট্যাক্সিচালকদের সঙ্গে কথা বলে চার-পাঁচজন সাংবাদিকের নামের কার্ড পাওয়া যায়। দেখা যায়, সকলই অখ্যাত-নামসর্বস্ব ও অনলাইন টিভির কথিত সাংবাদিক। এরমধ্যে বোয়ালখালীর তিন জনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে অফিস খুলে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়ে।
সাংবাদিক ও পুলিশের নামে চলাচল করা অন্তত ৫০টি সিএনজি ট্যাক্সি কাপ্তাই রাস্তার মোড়ে আসতে পারে। অন্য ট্যাক্সিগুলো কালুরঘাট ব্রিজ, কামাল বাজার বা কাপ্তাই রাস্তার মাথা কাছাকাছি পর্যন্ত আসে।
এই প্রতিবেদক গত রবিবার দুপুরে বোয়ালখালীর গোমদন্ডী বহদ্দারপাড়ায় যান সিএনজি ট্যাক্সিযোগে। ভাড়া গুনতে হয় ২০০ টাকা। অথচ কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে বোয়ালখালী উপজেলা সদর গোমদন্ডী ও ফুলতল পর্যন্ত ট্যাক্সি ভাড়া ছিল ১০০-১২০ টাকা। এখন ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ হাতিয়ে নিচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ট্যাক্সিচালক বলেন, ‘রাস্তার মাথা মোড়ে আসতে না পারলে ভাড়া হয় না। তাই সাংবাদিকদের মাসে দুই হাজার টাকা দিয়ে মোড়ে আসি। পুলিশ ধরলে সাংবাদিক ফোন করলে ছেড়ে দেয়।
ট্রাফিকের চান্দগাঁও এলাকার পরিদর্শক (টিআই) নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘যে যেভাবে পারছে প্রতারণা করে চলছে। অবৈধ ও গ্রাম সিএনজি ট্যাক্সি আটকের পর অনেকেই ফোন করে। সাংবাদিকের নামে ফোন ও তদবির করে। আমরা পাত্তা দিই না। আমাদের ডিসি স্যার এর বিরুদ্ধে কঠোর।’
বিপজ্জনক ব্যাটারি রিকশা : আরাকান সড়কের কালুরঘাট সেতু থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথার কাছাকাছি পর্যন্ত এলাকায় পিঁপড়ার ঝাঁকের মতো গিজগিজ করে ব্যাটারিচালিত রিকশা। এসব ব্যাটারি রিকশার যন্ত্রণায় অন্যান্য যানবাহন চলাচল বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। এলোমেলোভাবে চলাচলের কারণে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও যানজট নিত্যনৈমিত্তিক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর ছোট-বড় দুর্ঘটনা তো লেগেই রয়েছে।
শুধু তা নয়, এসব রিকশার ব্যাটারি চার্জের পেছনে প্রচুর বিদ্যুৎ চুরির অভিযোগ থাকলেও নিশ্চুপ রয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। অথচ বিদ্যুৎসাশ্রয়ের কড়া নির্দেশনা রয়েছে সরকারের।
দেখা যায়, আরাকান সড়কের কালুরঘাট সেতু এলাকা থেকে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মাজার গেট ও কাজীর হাট বাজার পর্যন্ত চলাচল করে শত শত ব্যাটারি রিকশা।
অভিযোগ রয়েছে, ব্যাটারিরিকশার কারণে চাপ পড়ছে বিদ্যুতের ওপর। চান্দগাঁও থানার বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য গ্যারেজ রয়েছে। এসব গ্যারেজে চার্জ দেওয়া হয়। অনেকে গ্যারেজ মালিক বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তাদের যোগসাজশে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
পূর্বকোণ/নুসরাত















