বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশের রাজনীতিতে সুপরিচিত একটি মুখ। ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর তিনি আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন, তবে এবার শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়—তার ব্যক্তিগত জীবনের না জানা দিকগুলো নিয়েও মানুষের আগ্রহ বেড়েছে।
সাধারণত রাজনীতির উত্তাল মঞ্চেই মির্জা ফখরুলকে দেখা যায়, কিন্তু তার সাংস্কৃতিক জীবনের গল্প অনেকের কাছেই অজানা। ঠাকুরগাঁওয়ের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অঙ্গনে এক সময় তিনি ছিলেন সক্রিয় এক মুখ।
অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক পরিচালনা এবং মঞ্চনাটক তৈরিতেও তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। বিটিভির ‘ইত্যাদি’ অনুষ্ঠানে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি নিজের সেই সময়ের স্মৃতি তুলে ধরে বেশ কিছু আকর্ষণীয় তথ্য জানিয়েছিলেন।
তার নাট্যচর্চার সূত্রপাত হয় ছাত্র জীবনে। ঠাকুরগাঁওয়ের পুরনো নাট্যচর্চার ধারা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফণী ভূষণ পালির হাত ধরেই প্রবেশ তার এ জগতে। তিনি আরও জানান, রাজা অষ্টম এডওয়ার্ডের রাজ্যাভিষেক উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে গড়ে ওঠা একটি নাট্য সংগঠনের ঐতিহ্যের সঙ্গেই তার শৈল্পিক গঠন জড়িয়ে আছে।
তার অভিনয়জীবনের একটি বিশেষ দিক হলো ঢাকাই চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত অভিনেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে কাজ করার অভিজ্ঞতা। অভিনেতা রহমান, যিনি তার মামাতো ভাই, এবং ‘নবাব’খ্যাত আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে তিনি মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন।
শুধু তাদের সঙ্গে অভিনয় নয়, তাদের নিয়ে নাটক পরিচালনার সুযোগ পাওয়াকেও তিনি নিজের জীবনের একটি বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।
শিক্ষকতা, রাজনীতি ও সংস্কৃতি—জীবনের এই তিন অধ্যায়ের মধ্যে কোনটি তার সবচেয়ে প্রিয়, জানতে চাইলে তিনি নির্দ্বিধায় সংস্কৃতির জগৎকেই বেছে নেন। তার ভাষায়, সাংস্কৃতিক অঙ্গনই তার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের।
রাজনীতির কঠিন পথ পাড়ি দেওয়া মির্জা ফখরুলের এই শৈল্পিক দিকটি প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক মঞ্চে আসার অনেক আগেই তিনি মঞ্চের আলো ও দর্শকের অভ্যর্থনায় অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন। রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে তার ব্যক্তিত্বে এই সাংস্কৃতিক দিকটির প্রভাবও কম নয়।
পূর্বকোণ/আদর

















