চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

পবিত্র জুমার দিনটি যেভাবে কাটাবেন

পবিত্র জুমার দিনটি যেভাবে কাটাবেন

অনলাইন ডেস্ক

১৪ আগস্ট, ২০২৬ | ১:১৮ অপরাহ্ণ

মুসলমানদের জীবনে শুক্রবার একটি বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ দিন। সপ্তাহের অন্যান্য দিনের মতো শুধু কর্মব্যস্ততা বা শুধু অবসর যাপনের দিন নয়; বরং ইবাদত, দোয়া ও আত্মশুদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ সময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই জুমার দিন সব দিনের মধ্যে শ্রেষ্ঠ।’ তাই দিনটিকে একটু ভিন্নভাবে সাজিয়ে নেওয়া একজন মুমিনের জন্য কল্যাণকর।

ফজরের পর কোরআন তিলাওয়াত করুন

শুক্রবারের শুরুটা কোরআন তিলাওয়াত দিয়ে করা যেতে পারে। বিশেষ করে সূরা কাহফ তিলাওয়াতের প্রতি হাদিসে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় নূরে আলোকিত হবে। তাই ব্যস্ততার অজুহাতে দিনের এ আমলটি বাদ না দেওয়াই ভালো।

বেশি বেশি দরুদ পড়ুন

শুক্রবারে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ আমল। তিনি বলেছেন, ‘তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ তাই কাজের ফাঁকে, যাতায়াতের সময় কিংবা অবসর সময়ে দরুদ পাঠের অভ্যাস করা যেতে পারে।

গোসল ও পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন

জুমার নামাজের আগে গোসল করা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। দাঁত পরিষ্কার করা ও শরীরের পরিচ্ছন্নতার প্রতিও যত্নবান হওয়া উচিত। এসব আমল শুধু বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতা নয়, বরং জুমার দিনের সম্মান প্রকাশেরও অংশ।

জুমার দিনের আমল ও ফজিলত

আগেভাগে মসজিদে যান

সম্ভব হলে জুমার নামাজের জন্য আগে আগে মসজিদে যাওয়া উচিত। হাদিসে জুমার দিন মসজিদে আগে যাওয়ার বিষয়ে বিশেষ সওয়াবের কথা এসেছে। মসজিদে পৌঁছে মনোযোগ দিয়ে নফল নামাজ পড়া, কোরআন তিলাওয়াত ও জিকিরে সময় কাটানো যায়। খুতবার সময় মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা এবং কথা বলা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

দোয়ার বিশেষ সময় খুঁজে নিন

শুক্রবারে এমন একটি সময় আছে, যখন কোনো মুসলমান আল্লাহর কাছে দোয়া করলে তা কবুল হওয়ার বিশেষ আশা করা যায়। অনেক আলেম আসরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়কে এর অন্যতম সম্ভাব্য সময় হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাই এ সময়ে নিজের, পরিবার ও মুসলিম উম্মাহর জন্য বেশি বেশি দোয়া করা উচিত।

আত্মসমালোচনা করুন

শুক্রবার শুধু কিছু আনুষ্ঠানিক আমল করার দিন নয়; বরং নিজের জীবন পর্যালোচনারও সুযোগ। গত সপ্তাহে কী ভুল হয়েছে, কোন গুনাহ থেকে ফিরে আসতে হবে এবং আগামী সপ্তাহ কীভাবে আল্লাহর আনুগত্যে কাটানো যায়—এসব নিয়ে কিছু সময় ভাবুন।

দিনের শেষে আল্লাহর কাছে তওবা করুন, নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চান এবং আগামী দিনগুলো আরও সুন্দরভাবে কাটানোর সংকল্প করুন। এভাবেই একটি শুক্রবার হতে পারে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের নতুন সূচনা।

পূর্বকোণ/রেহেনুমা 

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট