চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

তীব্র গ্যাস সংকট, সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস মিলবে কখন?

তীব্র গ্যাস সংকট, সামিটের এলএনজি টার্মিনাল থেকে গ্যাস মিলবে কখন?

অনলাইন ডেস্ক

১৪ আগস্ট, ২০২৬ | ৪:৪৭ অপরাহ্ণ

এলএনজিবাহী একটি জাহাজকে ‘ভেড়ানো না যাওয়ায়’ কক্সবাজারের মহেশখালীতে সামিটের ভাসমান টার্মিনাল থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে বলে ভাষ্য আরপিজিসিএলের এক কর্মকর্তার।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের ওই কর্মকর্তা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, নতুন একটি কার্গো শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৭টা ২০ মিনিটের মধ্যে সামিটের টার্মিনালে ভেড়ানোর কথা।

সমুদ্রপথে আনা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি গ্রহণ ও সংরক্ষণ করা হয় ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউতে। সেখানে এলএনজিকে আবার গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হয়।

এ প্রক্রিয়া মেনে শুক্রবার গভীররাত থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে ধারণা করছেন আরপিজিসিএলের ওই কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, “আশা করছি রাত ২টার দিকে সেন্ডআউট শুরু হবে সামিটে।”

সামিটের টার্মিনাল থেকে বুধবার দুপুর ৩টার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

আরপিজিসিএলের ওই কর্মকর্তা বলেন, আগে আসা একটি কার্গো ভেড়ানো না যাওয়ায় টার্মিনালটি খালি হয়ে যায়। এরপর নতুন কার্গো আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। অপর ভাসমান টার্মিনাল এক্সিলারেট থেকে দৈনিক প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে দেওয়া হচ্ছে।

মহেশখালীতে দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল রয়েছে। এর একটি এক্সিলারেট এনার্জির, আরেকটি সামিট এলএনজি টার্মিনালের; তাদের দৈনিক রিগ্যাসিফিকেশন সক্ষমতা যথাক্রমে ৬০০ ও ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

এক্সিলারেট এনার্জি টার্মিনালে গত ২১ জুলাই কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ার পর একপর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ৫ অগাস্ট গভীররাতে তা আংশিকভাবে চালু হয়। এর মধ্যে কার্গো ভেড়াতে না পেরে সামিটের টার্মিনাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয় বুধবার। ফলে গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে।

সামিটের টার্মিনাল শুক্রবার রাতে চালু হলে বিদ্যুৎকেন্দ্র, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও বাসাবাড়িতে গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়তে পারে।

পেট্রোবাংলার একজন পরিচালক বলেন, আগে আসা ‘আল হামরা’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি সামিটের টার্মিনালে খালাসের ক্ষেত্রে জাহাজটির উপযোগিতা ও নিরাপত্তা নিয়ে আপত্তি ছিল।

“টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট পক্ষের ওই আপত্তির কারণে কার্গোটি ভেড়ানো যায়নি।”

এ বিষয়ে সামিট এলএনজি টার্মিনাল পরিচালনাকারী যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিলারেট এনার্জির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া মেলেনি।

‘আল হামরা’১৯৯৭ সালে নির্মিত একটি মস-টাইপ এলএনজিবাহী জাহাজ। এ ধরনের জাহাজে গোলাকার ট্যাংকে এলএনজি রাখা হয়। এর ধারণক্ষমতা প্রায় ১ লাখ ৩৫ হাজার ঘনমিটার।

সামিটের টার্মিনালটির অবস্থান মহেশখালী উপকূল থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে। সমুদ্রে একটি এলএনজিবাহী জাহাজের কাছ থেকে জ্বালানি নিয়ে ভাসমান টার্মিনালটি তা গ্যাসে রূপান্তর করে সাগরতলের পাইপলাইনে জাতীয় গ্রিডে পাঠায়।

সামিটের টার্মিনালটি ২০১৯ সালে চালু হয়। এর আগে এ টার্মিনালে বড় জাহাজ থেকেও এলএনজি স্থানান্তর হয়েছে। ২০২০ সালে প্রায় ২ লাখ ১০ হাজার ঘনমিটার ধারণক্ষমতার কিউ-ফ্লেক্স শ্রেণির একটি জাহাজ থেকে সেখানে বাণিজ্যিকভাবে এলএনজি নেওয়া হয়। ২০২২ সালের মার্চে টার্মিনালটি একশতম জাহাজ-থেকে-জাহাজ এলএনজি স্থানান্তর সম্পন্ন করে।

তবে আল হামরা কার্গোটি নিয়ে আপত্তির কারিগরি কারণ প্রকাশ করেনি টার্মিনাল সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই।

দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে দেশে উৎপাদিত ও আমদানি করা এলএনজি মিলিয়ে দিনে প্রায় ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট সরবরাহ করা হয়।

এর মধ্যে দেশীয় ক্ষেত্র থেকে দৈনিক প্রায় ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যায়। আমদানি করা এলএনজি থেকে আসে প্রায় ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট।

বুধবার প্রকাশিত পেট্রোবাংলার দৈনিক গ্যাস প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ৪৬৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়।

এরপর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তীব্র আকার ধারণের মধ্যে রোজকার সেই বুলেটিন প্রকাশ থেকে বিরত রয়েছে পেট্রোবাংলা।

গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যায়। শিল্পকারখানার উৎপাদনও ব্যাহত হয়। গ্যাসচালিত যানবাহনে ব্যবহৃত সিএনজির সরবরাহেও চাপ পড়ে।

বৃহস্পতিবার বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক অনুষ্ঠানে জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের মোট গ্যাস ব্যবহারের প্রায় ২৯ শতাংশই ছিল আমদানি করা এলএনজি।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে কাতারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ১৯টি এলএনজি কার্গো পেয়েছিল। সংঘাত শুরুর পর ওই চুক্তির আওতায় আর কোনো কার্গো আসেনি। ঘাটতি মেটাতে পেট্রোবাংলাকে স্পট বাজার থেকে ৩৫টি কার্গো কিনতে হয়েছে।

গেল ১১ অগাস্টের পেট্রোবাংলার তথ্য উদ্ধৃত করে সিপিডি জানায়, গ্যাস সরবরাহকারী ছয়টি কোম্পানি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর চাহিদার ২৯ শতাংশ গ্যাস দিতে পেরেছিল। সার কারখানাগুলো পেয়েছিল চাহিদার ৩৮ শতাংশ।

দেশে গ্যাসের সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী বিদ্যুৎ খাত। চাহিদার নিরিখে এর পরের অবস্থানে রয়েছে শিল্পকারখানা, নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী শিল্প এবং আবাসিক খাত। ফলে এলএনজি সরবরাহ কমলে বিদ্যুৎ, শিল্প উৎপাদন, সিএনজি ও রান্নার গ্যাসে একসঙ্গে চাপ পড়ে।

সূত্র: বিডিনিউজ

পূর্বকোণ/রাকিব

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট