চট্টগ্রাম শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

চসিকের সাবেক মেয়র রেজাউলের বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরু

অনলাইন ডেস্ক

২৩ এপ্রিল, ২০২৬ | ১১:৩৭ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (সিসিসি) সাবেক মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

সাড়ে তিন বছর মেয়র পদে দায়িত্ব পালনকালে সিসিসিতে নিয়োগ, উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগ এবং বর্জ্য সংগ্রহের কাজে বেসরকারি কোম্পানি নিয়োগের বিষয়ে এ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

দুদকের সহকারী পরিচালক মো. রাজু আহমেদ বলেন, সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিষয়ে চারটি অভিযোগ আসে। অভিযোগগুলোর অনুসন্ধানের জন্য আমরা প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদন চেয়েছিলাম। অনুমোদন পাওয়ার পর অনুসন্ধানের কাজ শুরু করেছি।

গত সপ্তাহে তথ্য চেয়ে বর্তমান সিটি মেয়রকে চিঠি দিয়েছি। ৭ কার্যদিবসের মধ্যে আমরা তথ্য চেয়েছি। এখনো সিটি করপোরেশন থেকে জবাব পাইনি। আশা করি তারা তথ্য দেবে।

তথ্য পেতে বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হলে তিনি সিটি করপোরেশনে গিয়ে এ বিষয়ে যোগাযোগ করবেন বলেও জানান দুদক কর্মকর্তা মো. রাজু আহমেদ।

দুদকের চিঠিতে রেজাউলের আমলে বিভিন্ন পদে নিয়োগ পাওয়াদের নথি, ২৫টি উন্নয়ন প্রকল্পে ঠিকাদার নিয়োগের নথি এবং বর্জ্য সংগ্রহে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়ার চুক্তিসহ সংশ্লিষ্ট সব কাগজ চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিকে রেজাউল করিমের আমলের শেষ দুই বছরে হওয়া নিয়োগের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদন, নিয়োগ পরীক্ষার রেকর্ড, নিয়োগপত্রসহ যাবতীয় কাগজপত্র চাওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি দুদক রেজাউলের মেয়াদে হওয়া ২৫ উন্নয়ন প্রকল্পের বিবরণ, দরপত্রের যাবতীয় তথ্য, ঠিকাদারকে তথ্য, চুক্তিমূল্য ও সেসব কাজের বর্তমান আবস্থাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

এছাড়া রেজাউলের আমলে নগরীর চারটি ওয়ার্ডের বর্জ্য সংগ্রহের কাজে তিনটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগে দেওয়া বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ কমিটির কর্মকর্তাদের তালিকা, প্রতিবেদন ও চুক্তিপত্রের নথি চাওয়া হয়েছে দুদকের চিঠিতে।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন নগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী।

তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে পান ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট।

২০২১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মেয়র হিসেবে শপথ নেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফল বাতিল চেয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন শাহাদাত।

২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর ওই বছরের ১৯ অগাস্ট রেজাউল করিমকে মেয়র পদ থেকে সরিয়ে দে সেসময়ের অর্ন্তবর্তী সরকার।

২০২৪ সালের ১ অক্টোবর সাড়ে তিন বছর আগে করা নির্বাচনি মামলার রায়ে ডা. শাহাদাতকে নির্বাচিত ঘোষণা করে চট্টগ্রামের নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালের বিচারক যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ খাইরুল আমীন। পরে ওই বছরের ৩ নভেম্বর মেয়র পদে শপথ নেন শাহাদাত হোসেন।

এরপর ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর জোর করে তুলে নিয়ে ‘হত্যা ও গুমের ভয়’ দেখিয়ে জমি লিখিয়ে নেওয়া এবং ‘প্রতারণামূলকভাবে’জমির যথাযথ দাম পরিশোধ না করার অভিযোগে রেজাউল করিম, তার মেয়ে ও ভাইসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেন কৃষক দলের এক নেতা।

সরকার পতনের পর থেকে অন্য অনেক আওয়ামী লীগ নেতার মত সাবেক মেয়র রেজাউলও আত্মগোপনে রয়েছেন।

পূর্বকোণ/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট