চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ঐতিহ্যবাহী আল-জামেয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসার ১০৪তম বার্ষিক দ্বীনি মহাসম্মেলনে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির ও মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বক্তব্যে ব্যবহৃত ‘কুত্তার বাচ্চা’ শব্দটি নিয়ে বিতর্কের পর এর ব্যাখ্যা দিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।
গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সম্মেলনের সমাপনী দিনে বক্তব্য প্রদানকালে আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী ইসলামের বিভিন্ন ঘটনা ও প্রসঙ্গ তুলে ধরতে গিয়ে ওই শব্দটি ব্যবহার করেন। পরবর্তীতে বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিশেষ করে বক্তব্যটি মাওলানা মামুনুল হককে উদ্দেশ করে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
এ পরিপ্রেক্ষিতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ‘বিভ্রান্তি নিরসন’ শিরোনামে দেওয়া এক ব্যাখ্যায় বলা হয়, আমিরে হেফাজত আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে যে বক্তব্য দিয়েছেন বলে প্রচার করা হচ্ছে, তা বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
ব্যাখ্যায় উল্লেখ করা হয়, প্রচারিত বক্তব্যটি আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে শোনানো হলে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমি তো কথাটি তাকে বলিনি। সে তো আমার সন্তানের মতো প্রিয়।’
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যায় আরও বলা হয়, চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রচলিত ‘কুত্তার বাচ্চা’ শব্দটি সব ক্ষেত্রে গালি হিসেবে ব্যবহৃত হয় না। অনেক ক্ষেত্রে এটি আঞ্চলিক বুলি কিংবা স্নেহ প্রকাশের ভাষা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এমনকি সন্তানকে আদর করেও এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের প্রচলন রয়েছে।
ব্যাখ্যায় দাবি করা হয়, আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী কাউকে গালি দেওয়ার উদ্দেশ্যে শব্দটি ব্যবহার করেননি এবং মাওলানা মামুনুল হকের নাম উল্লেখ করেও কথাটি বলেননি।
এতে আরও বলা হয়, একটি আঞ্চলিক শব্দকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে বিকৃত করে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা অপমান হিসেবে প্রচার করা ন্যায়সংগত নয়। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে মনগড়া ব্যাখ্যা ও বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ



















