চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট ও বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও এ উদ্যোগকে কোনো ব্যক্তির নেতৃত্ব, অনুমতি বা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা হিসেবে উপস্থাপনের বিরোধিতা করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এক বিবৃতিতে শিক্ষার্থীরা তাদের এ অবস্থান তুলে ধরেন। বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষকদের উদ্যোগে পরীক্ষায় অংশ নিতে তারা আগ্রহী। তবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের অনুমতি, স্বাক্ষর কিংবা নেতৃত্বে পরীক্ষা দেওয়ার কোনো প্রস্তাব শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়নি।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ে অচলাবস্থা চলায় তারা ও তাদের পরিবার নানা ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষাজীবনের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারাই শিক্ষকদের কাছে পরীক্ষা আয়োজনের আবেদন জানিয়েছেন। শিক্ষার্থীদের আবেদনে সাড়া দিয়ে ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকেরা পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করলে তারা সেটিকে দায়িত্বশীল ও নৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করবেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত আবেদনের ভিত্তিতে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগকে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত কৃতিত্ব বা নেতৃত্বের সাফল্য হিসেবে প্রচার করা গ্রহণযোগ্য নয়। পাশাপাশি প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায় শিক্ষার্থীদের ওপর চাপিয়ে পরীক্ষা বন্ধ রাখা কিংবা পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রচেষ্টারও বিরোধিতা করেছেন তারা। শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার পর্যাপ্ত ভিত্তি ছাড়া কোনো ই-মেইলকে পুরো শিক্ষার্থী সমাজের সম্মিলিত মতামত হিসেবে উপস্থাপনের বিষয়েও আপত্তি জানিয়েছেন বিবৃতিদাতারা। তাদের মতে, কোনো ব্যক্তির নিজস্ব মতামতকে সব শিক্ষার্থীর অবস্থান হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।
এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষার রুটিন ও দাপ্তরিক নথি ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টে ব্যবহার করে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার নিন্দা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ ধরনের মতপার্থক্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করে ডিন, বিভাগীয় প্রধান, পরীক্ষা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান করা উচিত।
বিবৃতির শেষের দিকে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা শিক্ষকদের উদ্যোগে পরীক্ষা দিতে প্রস্তুত, তবে কোনো ব্যক্তির কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার শর্তে নয়। শিক্ষার্থীদের স্বার্থে পরীক্ষা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যেন কোনো ধরনের শাস্তিমূলক বা প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, সে আহ্বানও জানান তারা।
একই সঙ্গে শিক্ষাজীবন সচল রাখার পাশাপাশি সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের পুনর্বহালের দাবিতে নিজেদের অবস্থান অব্যাহত রাখার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন শিক্ষার্থীরা।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















