চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) রেজিস্ট্রারের পদ থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর পদত্যাগ করেছেন।
গতকাল (৬ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর ২০২২ সালের ২৮ আগস্ট থেকে নিজ দাপ্তরিক দায়িত্বের পাশাপাশি রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। গত ১ সেপ্টেম্বর ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির আবেদন জানান। আবেদনে তিনি ২২ সেপ্টেম্বর থেকে দায়িত্ব ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম জানান, গত ২৪ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব গ্রহণের দিন সন্ধ্যায় রেজিস্ট্রারের সঙ্গে তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। সে সময় অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব ছাড়ার আগ্রহের কথা পুনরায় জানান এবং ১ সেপ্টেম্বর জমা দেওয়া অব্যাহতি পত্রের বিষয়টি অবহিত করেন। পরবর্তীতে তাঁর সেই লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
উপাচার্য আরও বলেন, “অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর এখন থেকে যন্ত্রকৌশল বিভাগে পাঠদান ও গবেষণার কাজে পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারবেন।” দায়িত্ব পালনকালে প্রশাসনিক কার্যক্রমে তাঁর অবদানের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁকে ধন্যবাদ জানায়।
তবে অব্যাহতির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর। তাঁর ভাষ্য, তিনি পূর্ববর্তী উপাচার্যের কাছে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন, বর্তমান উপাচার্যের কাছে নতুন করে আবেদন করেননি। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন সংক্রান্ত নথি অনুমোদনের পর লিখিত অফিস আদেশ জারি হওয়ার কথা থাকলেও, তাঁকে কেবল ই-মেইলের মাধ্যমে বিষয়টিতে অবহিত করা হয়েছে। তাছাড়া ওই ই-মেইলে কোনো স্মারক নম্বর বা তাঁর নামও উল্লেখ ছিল না বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে, উপাচার্য পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে গত সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে এক ধরনের প্রশাসনিক ও একাডেমিক অচলাবস্থা তৈরি হয়। গত ২১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের স্থলে কুয়েটের অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শিক্ষার্থীরা সর্বাত্মক ‘শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেন। একই দাবিতে কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও।
এ অচলাবস্থার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতটি বিভাগের ৩৪টি পরীক্ষাসহ অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। টানা ৩৬ দিন শাটডাউন পালনের পর সেশনজট এড়াতে ও একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখতে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরেন, তবে আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জারি করা অফিস আদেশে প্রচলিত বিধি ও নিয়ম অনুসারে দ্রুত পরবর্তী দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তর প্রধানদের বিষয়টি নিজ নিজ অধীনস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবহিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















