চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা পরিষদের নতুন ভবনে চুরির ঘটনা ঘটেছে। ভবনের ৯টি অফিসের প্রতিটি কক্ষের তালা ভেঙে কম্পিউটারে থাকা গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ডকুমেন্টসহ মাদারবোর্ড, হার্ডডিস্ক ও র্যামের মতো মূল্যবান যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে গেছে চোরের দল। এতে প্রাথমিকভাবে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকার যন্ত্রাংশ চুরির পাশাপাশি সরকারের বিপুল টাকার ক্ষতিসাধন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে এ চুরির ঘটনা ঘটলেও শুক্রবার (৬ নভেম্বর) দুপুরে ভবনের নিচতলার ডিজিটাল সেন্টারের উদ্যোক্তা বদরুদ্দিন নিজের অফিসে গিয়ে তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পেয়ে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-কে অবহিত করেন। পরে চুরির খবর পেয়ে ইউএনও আবদুর রহমান থানা পুলিশসহ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। চোরের দল প্রমাণের চিহ্ন মুছে ফেলতে অফিসের সবকটি সিসি ক্যামেরা নষ্ট করে এবং মনিটরসহ চুরি করে নিয়ে যায়। চুরির পর পিসির কভারগুলো পার্শ্ববর্তী পুরাতন আদালত ভবনের একটি কক্ষে ফেলে রেখে যাওয়া হয়।
উপজেলা পরিষদের প্রথম থেকে চতুর্থ তলা পর্যন্ত বিস্তৃত উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকৌশলী, কৃষি কর্মকর্তা, মৎস্য কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, সমবায় কর্মকর্তা ও ডিজিটাল সেন্টারসহ মোট ৯টি কার্যালয়ে এই চুরির ঘটনা ঘটে। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ নিয়ে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রহমান জানান, সম্প্রতি রেস্টুরেন্ট ও গ্যাস ক্রস ফিলিং ইত্যাদিতে পরিচালিত মোবাইল কোর্টের জেরে কোনো বিশেষ মহল এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করতে পারে। ভবনের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, নৈশপ্রহরী না থাকায় গ্রাম্য পুলিশ দিয়ে পাহারা দেওয়া হতো, তবে ঘটনার রাতে কেউ দায়িত্বে ছিলেন না। ইতোমধ্যে নৈশপ্রহরী পদায়ন ও মূল গেটের বরাদ্দের জন্য জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, ইউএনও-র বাসভবন ও উপজেলা পরিষদ একই আঙিনায় অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও এমন ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। ইউএনও-র নিজস্ব নিরাপত্তার জন্য অস্ত্রসহ ১৩ জন আনসার সদস্য নিয়োজিত থাকলেও সমগ্র পরিষদের নিরাপত্তার জন্য কোনো নৈশপ্রহরী না থাকা এবং আনসারদের ভূমিকার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
স্থানীয়দের মতে, যেখানে উপজেলার আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মূল সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, সেই ভবনেই এমন চুরির ঘটনা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। উল্লেখ্য, গত কয়েক মাসে চন্দনাইশে হাশিমপুর বৌদ্ধ মন্দির, কাঞ্চনাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ এবং ১০টি স্কুলসহ একাধিক স্থানে চুরির ঘটনা ঘটায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















