কক্সবাজারের উখিয়ার পাটুয়ারটেকের ‘টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড রিসোর্টে’ ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১০ জনের পরিচয় ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করা গেছে। ঘটনার ১০ দিন পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণে নিহতদের লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ।
এদিকে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে নিখোঁজ থাকা স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার মরদেহও মঙ্গলবার উদ্ধার করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার জন্য তার দেহ জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সিআইডি সূত্র জানায়, আগুনে পুড়ে শরীর বিকৃত হয়ে যাওয়ায় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ১০ লাশের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নিহতদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় স্বজনদের সঙ্গে ডিএনএ মেলালে শতভাগ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়।
শনাক্ত হওয়া ১০ জনের সবাই ঢাকার দুটি পরিবারের সদস্য। ভ্রমণে এসে রিসোর্টটিতে অবস্থান করার সময় আগুনে আটকে তাদের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
নিহতদের মধ্যে একজন ঢাকার শ্যামলীর বাসিন্দা গ্রান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদুর রহমান (৪১)। আগুনে তার সঙ্গে মারা যান স্ত্রী আফসানা মতিন (৩৬) এবং তাঁদের দুই শিশুকন্যা রোজাইনা ইনায়া (৯) ও মুনাইনা ইহানা (৬)।
অন্য পরিবারের ছয় সদস্য ঢাকার বনশ্রী ও খিলগাঁও এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা হলেন—মৌলিতা মেহজাবিন আলভি (১৯), তাঁর খালাতো/ফুফাতো বোন লায়লা জাহান নাবিলা (২৫), ইসরাত জাহান মালিহা (২৭), আরেক বোন ফারিয়া কবির (৩৩), ফারিয়ার ছয় বছরের শিশুসন্তান মোহাম্মদ ফাইজান নূর এবং ফারিয়ার ছোট ভাই মোহাম্মদ নাফিস তেহামি (২৪)।
নিহতদের পরিচয় সূত্রে জানা যায়, তাঁদের মধ্যে কয়েকজন উদীয়মান শিক্ষার্থী ছিলেন। নাফিস তেহামি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের চীনা ভাষা ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। মৌলিতা মেহজাবিন আলভি ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ‘পপুলেশন অ্যান্ড পাবলিক হেলথ সায়েন্সেস’ বিভাগের এবং লায়লা জাহান নাবিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রিমন ঘোষ জানান, “ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ জনের লাশ স্বজনদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
মঙ্গলবার লাশ হস্তান্তরের সময় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এ সময় কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. আ. মান্নান, পুলিশ সুপার (এসপি) এএনএম সাজেদুর রহমান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তাসনীম জাহানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর সকালে উখিয়ার পাটুয়ারটেক এলাকার টুপটুপ রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কাঠ ও বাঁশের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরের পর্যটকেরা বের হতে পারেননি। ঘটনার কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে প্রশাসনিক তদন্ত চলছে।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















