কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ) ও ‘নো ডেভেলপমেন্ট জোনে’ সব ধরনের সড়ক নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর হাইকোর্টের দেওয়া আট সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞার আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি শেষে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে জারি করা রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। আদালতে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আইনজীবী মিনহাজুল হক চৌধুরী ও সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
মামলার নথি ও বেলার তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার পৌরসভা ‘নগর উন্নয়ন ও নগর শাসন প্রকল্প’-এর আওতায় জাইকার (JICA) অর্থায়নে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে হোটেল সাইমন পর্যন্ত প্রায় ১.৬ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। পরিবেশ আইন ও সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশনা তোয়াক্কা না করে এক্সকাভেটর দিয়ে সৈকতের বহু বছরের প্রাকৃতিক বালিয়াড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে সৈকতের প্রাকৃতিক ঢাল, লাল কাঁকড়া, সাগরলতা এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এর আগে, বেলি কর্তৃক দায়ের করা জনস্বার্থের রিটের শুনানি নিয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমেদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সড়ক নির্মাণের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন এবং রুল জারি করেন। রুলে সৈকতের ইসিএ এলাকায় সড়ক নির্মাণ কেন আইনি কর্তৃত্ববহির্ভূত ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না এবং এরই মধ্যে নির্মিত অংশের ইট-পাথর অপসারণ করে সৈকতের পূর্বাবস্থা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়। ওই আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল করলে আজ সর্বোচ্চ আদালত হাইকোর্টের আদেশই বহাল রাখেন।
পূর্বকোণ/ইবনুর/এএইচ

















