চট্টগ্রাম সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

মাতামুহুরিতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পৃথক অভিযান, গ্রেপ্তার ৬

মাতামুহুরীতে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে অস্ত্র-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৬

চকরিয়া প্রতিনিধি

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ৪:৫৬ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের মাতামুহুরী উপজেলায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে পৃথক দুটি অভিযানে ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় তৈরি দুইনলা ও একনলা রাইফেল, শর্টগান, ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, শর্টগানের কার্তুজ এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।

 

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বদরখালী ইউনিয়নের পশ্চিম ছনুয়া পাড়া ও হালকাচা পাড়া এলাকায় অভিযান দুটি চালানো হয়।

 

গ্রেপ্তাররা হলেন- রাজিব ওরফে শুটার রাজিব (২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত (৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত (২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর (২০), জহুরা বেগম (৪৫) ও শহর বানু (৫৫)।

 

পুলিশ জানায়, বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়া পাড়ার একটি বসতঘরে একদল ব্যক্তি ডাকাতির উদ্দেশ্যে জড়ো হয়েছে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। এলাকাটি দুর্গম হওয়ায় গাড়ি রেখে পুলিশ সদস্যরা প্রায় দুই কিলোমিটার পায়ে হেঁটে বসতঘরটি ঘেরাও করে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

 

পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তারদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচা পাড়ায় অভিযান চালানো হয়। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শহর বানু নামের আরও এক মহিলাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বসতঘরের পেছনের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, বস্তাটির ভেতর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়। প্রথম অভিযানে উদ্ধার করা ৫৮ রাউন্ডসহ দুটি অভিযানে মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

 

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। চকরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সড়ক ও আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি পুলিশের।

 

পুলিশ আরও জানান, উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, মানুষকে জিম্মি করা এবং মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা করা হচ্ছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এ-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া গেছে।

 

চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। পলাতকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার অভিযোগে পৃথক মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. আবদুল আজিজ বলেন, অভিযান চালিয়ে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।

 

পূর্বকোণ/ইবনুর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট