আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো, হাসপাতালের বেডে শোয়া অবস্থায় শেষবারের মতো স্ত্রীকে এই কথা বলেছিলেন দিদারুল আলম (৩২)।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্বামীর সাথে শেষ কথোপকথন তুলে ধরে শারমিন বলেন, ‘শেষবার শুধু বলেছিল, আমাকে মাফ করে দিও। আমার মেয়েটাকে দেখে রেখো। তখন বুঝিনি, এটাই ওর শেষ কথা।’
‘আমার মেয়েকে দেখার আর কেউ নেই। ওর বাবা ডাকার মানুষটাকেও আল্লাহ নিয়ে গেলেন।’
গত বৃহস্পতিবার সকালে বোয়ালখালীতে কনফিডেন্স সল্ট লিমিটেড কারখানায় বিস্ফোরণে দগ্ধ হন দিদারুল। গুরুতর আহতদের মধ্যে দিদারুল আলমের শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে যায়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
দিদারুল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বদন আলীর বাড়ির বাসিন্দা রুহুল আমিনের ছেলে। তার মৃত্যুতে স্ত্রী শারমিন আক্তার ও একমাত্র ৫ বছর বয়সী মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া আফরার জীবনে নেমে এসেছে অন্ধকার।
স্ত্রী শারমিন আক্তার জানান, বৃহস্পতিবার সকালে মেয়ের পরীক্ষা থাকায় দিদারুল দেরিতে কাজে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নাশতার পর তিনি মেয়েকে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন।
তখন দিদারুল বলেছিলেন, ‘তুমি যাও, মেয়ের পরীক্ষা শেষ করে আসো। আমি বাসায় আছি।’
স্কুলে পৌঁছানোর কিছুক্ষণ পর ফোন আসে কারখানায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তখনও শারমিন ধারণা করেছিলেন, দিদারুল বাসায় আছেন। পরে জানতে পারেন, দিদারুল ইতোমধ্যে কারখানায় গিয়েছিলেন এবং বিস্ফোরণের সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন।
খবর পেয়ে মেয়েকে নিয়ে তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ছুটে যান। সেখানে চিকিৎসকেরা জানান, দিদারুলের শরীরের বেশির ভাগ অংশ পুড়ে গেছে। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ছয় বছরের সংসারে আফরাই তাদের একমাত্র সন্তান। দিদারুল চার বোন রয়েছে। মা আগেই মারা গেছেন। বৃদ্ধ বাবা অসুস্থ। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন দিদারুল।
আফরা জানে না, বাবা আর ফিরবে না। তবুও অপেক্ষায় আছে বাবার। সে প্লেতে পড়ে। আফরা বলে, বাবা প্রতিদিন হাত ধরে স্কুলে নিয়ে যায়। সন্ধ্যায় তার জন্য নিয়ে আসেন চকলেট।
পূর্বকোণ/পিআর















