চট্টগ্রাম বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

শিশু আরাফাত হত্যা মামলা, এক বছর পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শিশু আরাফাত হত্যা মামলা, এক বছর পর প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

লামা সংবাদদাতা

১২ আগস্ট, ২০২৬ | ৮:০৯ অপরাহ্ণ

বান্দরবানের লামা উপজেলায় ৯ বছরের শিশু আরাফাত হোসেনকে বলাৎকার ও শ্বাসরোধ করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার এক বছর পর মামলার প্রধান আসামি মো. আবদুল কুদ্দুছকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ৯ আগস্ট লক্ষ্মীপুর জেলার কমলনগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত কুদ্দুছ লামার বৈক্ষম ঝিরি এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে এবং পেশায় একজন অটোরিকশা চালক।

২০২৫ সালের ৮ জুলাই দুপুরে লামার বৈল্যারচর এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে মাচার সাথে গলায় রশি লাগানো অবস্থায় আরাফাতের মরদেহ পাওয়া যায়। শুরুতে বিষয়টিকে আত্মহত্যা মনে করে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ পরীক্ষার রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। পরীক্ষায় নিহতের শরীরে বীর্যের উপস্থিতি শনাক্ত হয় এবং চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন যে, শিশুটিকে বলাৎকারের পর শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১১ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ কাইছার হামিদের তত্ত্বাবধানে এবং এসআই মো. সালাহ উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম তদন্ত শুরু করে। তদন্তে দেখা যায়, ঘটনার পর থেকে আসামি কুদ্দুছ সন্দেহজনক আচরণ শুরু করেন এবং পুলিশি তৎপরতা টের পেয়ে নিজের অটোরিকশা গ্যারেজে রেখে গা-ঢাকা দেন। দীর্ঘ ১১ মাস পালিয়ে থাকার পর অবশেষে লক্ষ্মীপুরের চর সামসুদ্দিন এলাকার রফিকগঞ্জ বাজার থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কুদ্দুছ স্বীকার করেন, ঘটনার দিন তিনি শিশু আরাফাতকে বলাৎকার করেন এবং ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যান। মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারা অনুযায়ী স্বেচ্ছায় হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন। বর্তমানে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট