কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালত এলাকায় প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া ও গোলাগুলির সাজানো মামলায় ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী সিকদারকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে বিচারক ইরফানুল হক চৌধুরী জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার নথি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জেলা আদালতের পশ্চিম গেটে এক রক্তক্ষয়ী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে জেলা সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলীর চাচাতো ভাই মঈন উদ্দিন গুলিবিদ্ধ হন এবং ঘটনাস্থল থেকে পিস্তলসহ জিয়াউল হক জিয়া নামে এক যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। ঘটনার পরপরই লিয়াকতকে হত্যার উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে উঠে আসে চাঞ্চল্যকর সত্য। পুলিশি তদন্তে নিশ্চিত হওয়া যায়, মূলত প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে ও এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতে লিয়াকত আলী সিকদার নিজেই ভাড়াটে লোক দিয়ে এই গোলাগুলির নাটক সাজিয়েছিলেন।
সাজানো ঘটনা উন্মোচনের পর কক্সবাজার সদর মডেল থানা পুলিশ বাদী হয়ে জেলা সদরের ঝিলংজা ইউনিয়ন বিএনপি নেতা লিয়াকত আলী সিকদার ও তার সহযোগীদের আসামি করে অস্ত্র ও নাশকতা আইনে মামলা দায়ের করে। ঘটনার দিন হাতেনাতে গ্রেপ্তার হওয়া জিয়াউল হকের কাছ থেকে ১টি পিস্তল, ৪ রাউন্ড গুলি, ২টি ম্যাগজিন এবং ৬টি গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার জিয়াউল ঈদগাঁও উপজেলার সীমান্ত এলাকার কালিরছড়ার বাসিন্দা।
আদালতের আদেশের পর কড়া নিরাপত্তায় লিয়াকত আলীকে কক্সবাজার জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট আদালত সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















