স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শন ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেছেন।
শুক্রবার বিকেলে চকরিয়ার লক্ষ্যারচর এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন।
বন্যার ভয়াবহতার সময় বিদেশে অবস্থান করার কারণে দুর্গত মানুষের পাশে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘বিদেশে থাকার কারণে বন্যার সময় আপনাদের পাশে আসতে পারিনি। এজন্য আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইছি। আশা করি, আপনারা আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে এবং থাকবে’।
চকরিয়া, মাতামুহুরী ও পেকুয়া উপজেলাকে স্থায়ীভাবে বন্যামুক্ত করার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা প্রদান করেন। তিনি জানান, মাতামুহুরী নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে নদীতে ড্রেজিং করা হবে এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট ছড়াখালগুলো খনন করা হবে। মন্ত্রী বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির জরিপ শুরু করেছে এবং জরিপ শেষে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেড়িবাঁধ ও কৃষিজমি পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পলাতক আসামি মেজর মোজাফফর আহমদ জিয়াকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠিয়েছে এবং বর্তমানে বিষয়টি সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেখাশোনা করা হচ্ছে।
বিকেলে কাকারার এসএমচরে বিজিবির আয়োজনে দিনব্যাপী ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্প ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানেও মন্ত্রী অংশ নেন। এরপর তিনি চকরিয়ার ছড়াকুল এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ, পৌরসভার কোচপাড়ায় নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি এবং বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিদর্শন করেন। তিনি দুর্গত মানুষের দুর্ভোগের কথা শোনেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেন।
এসব কর্মসূচিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন মহিলা সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শামিম আরা স্বপ্না, বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান, পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমানসহ বিজিবি ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
সবশেষে মন্ত্রী চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, বরইতলী, হারবাং ও পহরচাঁদা ইউনিয়নের পৃথক অনুষ্ঠানেও ত্রাণ বিতরণ সম্পন্ন করেন।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















