চট্টগ্রামের নবসৃষ্ট ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলার সদর দপ্তর যৌক্তিক স্থানে স্থাপনের দাবিতে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করছে উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলা বাস্তবায়ন পরিষদ।
হরতালের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ ও টায়ার জ্বালিয়ে নানা কর্মসূচি পালন করছেন তারা। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারি নানা অফিস।
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা বাস্তবায়ন সমন্বয় পরিষদ আহ্বানে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল থেকে হরতালের সমর্থনে আন্দোলনকারীরা নারায়ণহাট, দাঁতমারা, বাগানবাজারসহ মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থান নেন। এসময় তারা সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও পিকেটিং কর্মসূচি পালন করেন।
সংগঠনটির দাবি, নবগঠিত উপজেলার সদর দপ্তর এমন স্থানে স্থাপন করতে হবে যেন অন্তর্ভুক্ত ছয়টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা সমানভাবে সহজে যাতায়াত করতে পারেন এবং সরকারি সেবা নির্বিঘ্নে গ্রহণ করতে পারেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আয়তন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, উপজেলা সদরের সঙ্গে সড়ক দূরত্বসহ নানা কারণে দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চনার শিকার উত্তর ফটিকছড়ির বসিন্দারা। তাদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা ঘোষণা করা হলেও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তির হস্তক্ষেপে তার সদর দপ্তর দক্ষিণেই স্থাপন করা হচ্ছে। আগের উপজেলা সদর থেকে যার দূরত্ব মাত্র ৯ কিলোমিটার। এতে উত্তরের আরো ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটারের মতো এলাকা আগের মতো অন্ধকারেই রয়ে যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। অথচ উত্তরের তিনটি ইউনিয়েই বাস করেন নতুন উপজেলার ৬৫ শতাংশ মানুষ।
আন্দোলন কারীরা বলেন “আমাদের দাবি একটাই—উত্তর ফটিকছড়ি উপজেলার সদর দপ্তর জনগণের সুবিধাজনক ও যৌক্তিক স্থানে স্থাপন করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
পূর্বকোণ/পিআর















