বান্দরবানে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতির ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। গত দু’দিনে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে যাওয়ায় নিম্নাঞ্চল থেকে পানি নেমে গেছে। বান্দরবানের সাথে চট্টগ্রাম-কক্সবাজারের যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়েছে। তবে সেতু ভেঙে যাওয়ায় বান্দরবানের সাথে রাঙামাটির সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট চলছে। বিভিন্ন এলাকায় পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব চলছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে কৃষি বিভাগ ও যোগাযোগ ব্যবস্থায়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় পানিবন্দী হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১২ হাজার ৫০০ পরিবার। জেলার ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে ৬৭টিতে বর্তমানে ২,৫৮২ জন আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্যোগে লামা উপজেলায় পাহাড়ধসে ৫ জন এবং পানিতে ডুবে আরও ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলমান দুর্যোগে জেলার বিভিন্ন স্থানে মোট ৪৭টি ভূমিধস হয়েছে, যার মধ্যে ১১টি বড় আকারের। পাহাড়ধস ও গাছ পড়ে ২১টি স্থানে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগের ৬১ কিলোমিটার এবং এলজিইডির ৯০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৪টি ব্রিজ ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি খাতে ২ হাজার ১০৪ হেক্টর কৃষিজমি ও বাগান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৩৬৮ হেক্টর জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার ৩২৩ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ৪০০ টন চাল, ২০ লাখ টাকা এবং প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৬০ ব্যাগ ত্রাণ, ৮৭৫ প্যাকেট শিশুখাদ্য এবং ৩ লাখ টাকা নগদ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বান্দরবান পৌরসভার উদ্যোগে প্রতিদিন দুই বেলা করে এখন পর্যন্ত প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ জন দুর্গত মানুষকে রান্না করা খাবার সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে আরও ৩ হাজার ব্যাগ ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে।’
পূর্বকোণ/পিআর















