চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

মাতারবাড়ীতে গৃহবধূ হত্যা, আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

মাতারবাড়ীতে গৃহবধূ হত্যা, আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

মহেশখালী সংবাদদাতা

১৩ জুলাই, ২০২৬ | ১১:০৪ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ী ইউনিয়নের মগডেইল এলাকায় কহিনুর আকতার (২৮) নামে এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি কোনো আত্মহত্যার ঘটনা নয়, বরং হত্যাকাণ্ডকে ধামাচাপা দিতে মরদেহ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

 

নিহত কহিনুর আকতার স্থানীয় মগডেইল এলাকার বাসিন্দা আবু বক্করের কন্যা এবং সৌদি প্রবাসী বশির আহমদের স্ত্রী। ২০১২ সালে বিয়ের পর তাদের সংসারে দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তান রয়েছে।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার রাতে কহিনুর তার সন্তানদের ঘুম পাড়িয়ে নিজ কক্ষে থাকাকালীন তার ননদের স্বামী হাসেম সেখানে আসেন। তিনি কহিনুরকে বকাঝকা করেন এবং তার মোবাইল ফোনটি কেড়ে নেন। কিছুক্ষণ পর কহিনুরের সাত বছর বয়সী ছেলে তার মাকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করলে স্বজনরা ছুটে আসেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

 

নিহতের পরিবারের দাবি, স্থানীয় গরু ব্যবসায়ী হাসেমের নেতৃত্বে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে। এই ঘটনায় হাসেম ছাড়াও দুই নারীসহ আরও কয়েকজন জড়িত বলে তারা অভিযোগ করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে যে, প্রধান অভিযুক্ত হাসেমকে বাঁচাতে এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি এবং একাধিক মামলার আসামিরা নানামুখী তদবির ও ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে ।

 

শনিবার রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর সোমবার কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয় এবং রাতে জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।

 

মহেশখালী থানার ওসি মুহাম্মদ আব্দুস সোলতান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে, এটি সাধারণ আত্মহত্যা নয়। তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অভিযোগ পেলে দ্রুত মামলা রুজু করা হবে।

 

এদিকে এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট