চট্টগ্রাম সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

বাঁধ-তীরের ২১৮ পয়েন্টে ভাঙন

পানি উন্নয়ন বোর্ড

মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

১৩ জুলাই, ২০২৬ | ১২:২১ অপরাহ্ণ

অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। চট্টগ্রামে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অতিরিক্ত পানির তোড়ে বিভিন্ন উপজেলায় বেড়িবাঁধ ও তীরবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়। পাউবোর দাবি, বন্যার পানি নামতে শুরু করলে ভাঙন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) খ ম জুলফিকার তারেক পূর্বকোণকে বলেন, ‘৬ জুলাই থেকে এক সপ্তাহ বৃষ্টিপাত হয়েছে ১৪৪৬ দশমিক ৫ মিমি। জুলাই মাসের গড় বৃষ্টিপাতের চেয়ে আড়াইগুণ বেশি।

 

অতিরিক্ত বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও নদী-খালের তীরে ভাঙন সৃষ্টি হয়। বন্যার পানি নেমে গেলে ভাঙনরোধের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’ বন্যায় কর্ণফুলী, সাঙ্গু, হালদা নদীর পানি বিৎদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে জেলার সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালীতে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়। সরকারি হিসাবে প্রায় সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে।

 

অতিরিক্ত পানির চাপে নদী-খালের তীর ভাঙন সৃষ্টি হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রাথমিক হিসাব বলছে, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে ২১৮ স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। সবমিলে ২০ দশমিক ১৪ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন ধরেছে। এরমধ্যে চট্টগ্রামে ১৬৫ স্থানে ভাঙন ধরেছে। জরুরিভিত্তিতে এসব ভাঙন সংস্কার ও মেরামতের জন্য ৭৬ কোটি ৬২ লাখ টাকার বরাদ্দ চেয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, কর্ণফুলী, হালদা, ইছামতি, সাঙ্গু, শিলক ও কক্সবাজারের মাতামুহুরী, বাকখালী, রেজু খাল এবং বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী এলাকা ও ভাঙন সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, সাতকানিয়ার সাঙ্গু, ডলু নদী ও কাটাখালী খালের ভাঙনে বাজালিয়া ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া, বাংলাবাজার, আধুনগর পূর্বপাড়া, আমিলাইশ ইউনিয়ন এবং লোহাগাড়া উপজেলার সরদানীপাড়া, আধুনগরের পূর্বপাড়া, কলাউজানের আঁধারচর আবদুস ছালাম বাড়ি, আমিরাবাদ ইউনিয়ন, উত্তর পদুয়ার সওদাগর পাড়া, চরম্বা ইউনিয়নের তেলিবিলা গ্রামের বিভিন্ন স্থানে নদী ও খালের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে।

 

হালদা নদী ও ধুরং খালের নাজিরহাট পৌরসভার বিভিন্ন স্থানে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। পটিয়া উপজেলার চান্দখালী, হারগাজী ও খরণা খালের ভাঙন ধরেছে ধলধাট, আশিয়া, শোভনদণ্ডী, কচুয়াই, কোলাগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্টে নদী-খালের ভাঙন দেখা দেয়।

 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শওকত ইবনে সাহিদ বলেন, ‘পানি উন্নয়ন বোর্ড-১ এর আওতায় বিভিন্ন উপজেলা-ইউনিয়নের ৫৯ স্থানে ভাঙন ধরেছে। প্রায় ৫ দশমিক ২ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভাঙছে সাতকানিয়ায়। বন্যার পর জরুরিভিত্তিতে এসব এলাকায় ভাঙনরোধের কাজ শুরু হবে। এজন্য প্রায় ১৮ কোটি টাকা বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

 

পাউবো সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৭ মে আনোয়ারা ও বাঁশখালী উপজেলায় ভাঙন প্রতিরোধে বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন হয়। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ৮৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। বর্তমানে প্রকল্পটির কাজ চলমান রয়েছে। আগে বাঁশখালীতে ২৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছিল। এই বাঁধ নির্মাণ নিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড রাঙামাটি বিভাগের অধীনে কর্ণফুলী, ইছামতি, শিলক, কাপ্তাই হৃদ, সত্তাখাল, ডাবুয়া খাল, বোয়ালখালী খালসহ বিভিন্ন খালের ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ১০৬টি স্থানে ভাঙনের প্রাথমিক তালিকা তৈরি করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের এই বিভাগ। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এসব স্থানের ৬ দশমিক ২৭৫ কিলোমিটার মেরামতের জন্য ৪০ কোটি ২৩ লাখ টাকার বরাদ্দ চেয়েছে।

 

কর্ণফুলী নদী ও শাখা খালের ভাঙনরোধে বোয়ালখালীতে ১৩৪ কোটি নয় লাখ টাকার প্রকল্পের কাজ চলছে। তবে প্রকল্পের ৪৩ শতাংশ কাজ পেয়েছে ‘বিতর্কিত’ ঠিকাদার ও খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগ নেতার ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

 

চট্টগ্রাম ছাড়াও কক্সবাজারের বঙ্গোপসাগর এবং বাকখালী, মাতামুহুরী নদী ও বিভিন্ন খালের ভাঙনে প্রায় ৮ কিলোমিটার এলাকায় ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার ভাঙন সংস্কারের জন্য প্রায় ২০ কোটি টাকার মতো বরাদ্দ চেয়েছে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট