টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকে ঘরবাড়ি, গবাদিপশু ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। এই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জরুরি ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে প্রশাসনের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ইলশা গ্রামে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এই কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং সাথে ছিলেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া।
ত্রাণ কার্যক্রমের আওতায় বন্যাকবলিত ১০০টি পরিবারের মাঝে ১ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়। এছাড়া আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মানুষের জন্য ২০০ প্যাকেট শুকনো খাদ্যসামগ্রী এবং অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২০০ প্যাকেট রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যায় নিহত দুই শিশুর পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২৫ হাজার টাকা করে মোট ৫০ হাজার টাকার আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে সরকার তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এমপি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বিএনপি চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম এবং প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
অতিথিরা জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের দুর্ভোগ লাঘবে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ ও প্রয়োজনীয় পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















