চট্টগ্রামে রাঙ্গুনিয়ার পদুয়া ইউনিয়নে বান্দরবান-রাঙ্গুনিয়া সড়কের ব্রিজঘাট এলাকায় ব্রিজের দক্ষিণ পাশের বেইলি ব্রিজের পিলার ভেঙে ব্রিজটি ধসে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সাথে বিদ্যুৎ খুঁটি ভেঙে বিদ্যুত সংযোগও বিচ্ছিন্ন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার (১১ জুলাই) ভোর ৪টায় টানা চার দিনের ভারীবর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের স্রোতে শিলক খালের সেতুর দক্ষিণ অংশের সড়কসহ সেতুর একটি অংশ তলিয়ে যায়। সরেজমিনে দেখা যায়, শিলক খালের বিচ্ছিন্ন এ সেতুর পূর্ব দিকে নাপিতপুকুরিয়া- দুধপুকুরিয়া রাবারড্যাম প্রকল্প ও তৎসংলগ্ন বেড়িবাঁধও পাহাড়ি ঢলে ভেঙে বিলিন হয়ে গেছে। দীর্ঘ এই সেতুটি দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়ার যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম। এটি বিচ্ছিন্ন হবার ফলে পদুয়া ইউনিয়নের বিশাল জনবসতি রাঙ্গুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়৷ বিদ্যুতের কয়েকটি খুঁটিও বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়। এতে বান্দরবানসহ উপজেলার মূল অংশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবার ফলে দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। সেতুর দক্ষিণ পাড়ে সড়কের পাশের দোকান ও ঘরবাড়ি ভাঙনের কবলে পড়ে নদী গর্ভে বিলিন হবার অপেক্ষায়।
স্থানীয় যুবক ছাত্রনেতা প্রকৌশলী শাহাদাৎ হোসাইন হেলেন বলেন, অতিরিক্ত বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে পদুয়া ইউনিয়নের দুধপুকুরিয়া রাবারড্রেমের বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ব্রিজঘাট ব্রিজের দক্ষিণাংশে পড়েছে। যার ফলে বান্দরবান-রাঙ্গামাটিসহ আশপাশের এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয়রা জানান,বন্যার পানিতে সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি ভেঙ্গে তলিয়ে যাচ্ছে এবং আরো শতশত পরিবার হুমকির মুখে পড়ে। তারা এর জন্যে দুধপুকুরিয়া রাবারড্যাম বেড়িবাঁধ মজবুত না হওয়া ও বালু উত্তোলনকে দায়ী করেছেন। যদিও এখন আমাদের বর্তমান এমপি হুমাম কাদের চৌধুরীর নির্দেশে বালু উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। তারা জানান, বিগত কয়েক বছর ধরে যে পরিমাণ বালু উত্তোলন করা হয়েছে তাতে খাল কমপক্ষে ২০-৩০ ফুট গভীর হয়ে এ সমস্যার সৃষ্টি। শিলক খালের দুই তীরে আবাদ করা আউশ ধান ও বিভিন্ন শাকসবজিও নষ্ট হয়েছে।
এলাকাবাসী দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারের সার্বিক সহযোগিতা এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অনুরোধ জানান।
পূর্বকোণ/রাহাত/পারভেজ















