চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় ৬ দিনের টানা ভারী বর্ষণে উপকূলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির ফলে এখনো কয়েক লাখ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
বিশেষ করে, ছনুয়া,শেখেরখীল, বাহারছড়া, বৈলছড়ী,শীলকূপ কাথরিয়া, সরল ইউনিয়নের নীচু এলাকার শত শত পরিবার আত্মীয়-স্বজনের বসতবাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। কোমর পানি থাকায় খাবার পানির সংকট, চুলায় আগুন জ্বলছে না, মানুষের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। গো খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। মানুষ আত্মীয়স্বজনের সহায়তায় রাত ও দুপুরের খাবার সংগ্রহ করছেন।
শনিবার (১১ জূলাই) বিকেলে উপজেলার ছনুয়া, শেখেরখীল, চাম্বল, সরল ও বাহারছড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।
জানা যায়, ভারী বর্ষণে বাঁশখালীর নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। অনেক সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। নাপোড়া হতে শেখেরখিল ইউনিয়ন, রাস্তা মাথা থেকে মৌলভীবাজার পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে সড়কের উপর হাটু পরিমাণ পানি রয়েছে।
শেখেরখীল ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কৃষক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, শেখেরখীল ইউনিয়নে এখনো অন্তত পঁচিশ হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। ৮ নং ওয়ার্ড লাল জিয়ন, বামুনিকীল, ৯ নং ওয়ার্ড জেলেপাড়া, ৭ নং ওয়ার্ড ফকির পাড়া, বলি মাঝির পাড়ায, ৩ নং ওয়ার্ডের ফাঁড়িরমুখ, গুলাখালী এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব এলাকায় নিষ্কাশনের কোন ব্যবস্থা না থাকায় পানি আটকে আছে।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শেখেরখীল। সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। পানির নিষ্কাশনে কোন ব্যবস্থা নেই।
ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শামসুল আলম বলেন, উপজেলার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শেখেরখীল। সড়ক যোগাযোগ এখনো বিচ্ছিন্ন। কোথাও কোমর পরিমাণ, আবার কোথাও হাঁটু পরিমাণ পানিতে মানুষ চলাচল করছে। দুর্গত এলাকা ঘোষণা দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বাঁশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভারী বর্ষণের ফলে জলাবদ্ধতায় চলাচলের রাস্তাগুলো তলিয়ে গেছ।
বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, উপকূলীয় এলাকায় এখনো বেশ কিছু পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। তবে পানি নামতে শুরু করেছে। সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।
পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ
















