চট্টগ্রাম শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

স্রোতে ভেসে কিশোরীর মৃত্যু, পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

স্রোতে ভেসে কিশোরীর মৃত্যু, পাঁচ লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

চকরিয়া সংবাদদাতা

১০ জুলাই, ২০২৬ | ৯:০৬ অপরাহ্ণ

পাঁচ দিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেনে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া-পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে নতুনভাবে কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে তিন উপজেলার ২৫টি ইউনিয়ন দুটি পৌরসভাসহ পাঁচ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

চকরিয়া-পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। চকরিয়ায় বন্যার পানির স্রোতে ভেসে গিয়ে এক কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে।

 

জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের রসুলাবাদ এলাকায় শুক্রবার সকালে নৌকা ডুবে ঝর্ণা বেগম (১২) নামের কিশোরী নিখোঁজ হয়েছে। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল অনেক খোঁজাখুজির পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করেন।

 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার।

 

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, পাহাড়ি ঢলের প্রবেশমুখ সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়ন ও কাকারা ইউনিয়ন ৫-৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে আছে। জিদ্দাবাজার-কাকারা-মানিকপুর সড়কের কয়েকটি অংশের উপর দিয়ে মাতামুহুরী নদী থেকে উপচে আসা ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় বসতঘরগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। চকরিয়া – পেকুয়া ও মাতামুহুরী উপজেলায় বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে লোকালয়ে প্রবেশ করছে বন্যার পানি।

 

চকরিয়ার কাকারা, সুরাজপুর-মানিকপুর, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল, বরইতলী, হারবাং, চিরিঙ্গা, ফাঁসিয়াখালী, ডুলাহাজারা, খুটাখালী এবং পেকুয়া পৌরসভা ও উপজেলার মেহেরনামা, উজানটিয়া, মগনামা, রাজাখালী, টৈটং, শিলখালী ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

 

অন্যদিকে, নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার সাহারবিল, বদরখালী, কোণাখালী, ঢেমুশিয়া, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা এবং বিএমচর ইউনিয়নে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক বানবাসী মানুষ।

 

চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম.আবদুর রহিম বলেন, অতি বৃষ্টির কারণে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ড পানির নিচে তলিয়ে গেছে। স্ব-স্ব ওয়ার্ডের বিএনপির নেতারা পানি যাতে দ্রত নিচের দিকে নেমে যায়, সেজন্য কাজ করছে।

 

এছাড়াও ৮ নং ওয়ার্ডের বেড়িবাঁধটি রক্ষার জন্য বালির বস্তা ফেলা হচ্ছে। পৌরসভার পানিবন্দি বানবাসিকে শুকনো খাবারের পাশাপাশি খিচুড়ি রান্নাকরে বিতরণ করা হচ্ছে।

 

সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম জানান, আমাদের ইউনিয়নগুলো মাতামুহুরী নদীর সাথে লাগোয়া। এজন্য পাহাড় থেকে নেমে ঢলের পানি আগে আঘাত হানে এসব ইউনিয়নগুলোতে। এই দুই ইউনিয়নে অধিকাংশ ঘর পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। গত তিন ধরে তাদের রান্নার কাজও বন্ধ। শুধু শুকনো খাবার খেয়ে রয়েছে।

 

পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউ্এনও) রফিকুল ইসলাম জানান, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন সরজমিন পরিদর্শন করেছি। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখো মানুষ। বেশ কয়েকটি বেড়িবাঁধ বানের স্রোতে তলিয়ে গেছে। তাদের জন্য শুকনো আর রান্না করা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যার পানি বাড়ছে। চকরিয়ায় প্রায় ৩ থেকে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বন্যা কবলিত মানুষজনকে বিভিন্ন আশ্রয় কেন্দ্রে স্থানন্তর করা হচ্ছে।

 

তিনি আরও বলেন, জেলা প্রশাসন থেকে দুই উপজেলার জন্য ৩০ টন মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থানরতদের শুকনো খাবার দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বন্যা কবলিত বানবাসী মানুষদের জন্য শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। বন্যার ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মহোদয়কে অবহিত করে ত্রাণ বরাদ্দ চেয়েছি।

 

পূর্বকোণ/আদর/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট