চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ০৯ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

কক্সবাজারে বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটন খাতে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি, ৫০ হাজার বুকিং বাতিল

কক্সবাজারে বৈরী আবহাওয়ায় পর্যটন খাতে ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি, ৫০ হাজার বুকিং বাতিল

কক্সবাজার সংবাদদাতা

৯ জুলাই, ২০২৬ | ৮:৪০ অপরাহ্ণ

টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়া, রেকর্ড ভাঙা অতিবর্ষণে সৃষ্ট বন্যা এবং সমুদ্র উত্তাল থাকার প্রভাবে দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্র কক্সবাজার কার্যত পর্যটকশূন্য হয়ে পড়েছে। যোগাযোগ বিপর্যয় এবং বন্যা পরিস্থিতির কারণে গত চার দিনে কক্সবাজারের পাঁচ শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের রুম বুকিং বাতিল হয়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলো স্থবির হয়ে পড়ায় মাত্র চার দিনেই এই খাতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন ব্যবসায়ীরা।

 

যোগাযোগ বিপর্যয় ও গণহারে বুকিং বাতিল

কক্সবাজার হোটেল-মোটেল-গেস্টহাউস মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার জানান, “ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে ঢাকা-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতা ও ভাঙনের কারণে বাস চলাচলও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এই যোগাযোগ বিপর্যয়ের কারণে গত চার দিনে জেলার পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেলে প্রায় ৫০ হাজার পর্যটকের অগ্রিম বুকিং বাতিল হয়েছে। বর্তমানে মাত্র ১০ হাজার পর্যটক শহরে অবস্থান করছেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে তাদের অনেকেই নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে যাচ্ছেন।”
একই সুর শোনা গেল কলাতলী ডলপিন মোড়ের ‘হোটেল রেইনভিউ’-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোকিম-এর কণ্ঠে। তিনি পূর্বকোণকে জানান, তাঁর হোটেলেই ইতিমধ্যে ৪০ শতাংশ বুকিং বাতিল হয়েছে। মহাসড়কে পানি উঠে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ায় এবং বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সামনে বুকিং বাতিলের হার আরও বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

 

সৈকতে থমথমে পরিবেশ, বিপাকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) শহরের সুগন্ধা, কলাতলী, লাবণী এবং উখিয়ার ইনানী সৈকত পয়েন্ট ঘুরে দেখা যায় পুরো সৈকতজুড়ে এক থমথমে পরিস্থিতি। সাগরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বলবৎ থাকায় সৈকতসংলগ্ন কয়েক শ দোকানপাট ও পর্যটননির্ভর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

পর্যটক না থাকায় ঝালমুড়ি, চটপটি, ঘোড়ার পিঠে চড়ানো, বিচ বাইক ও কিটকট (চেয়ার-ছাতা) ব্যবসায়ীদের আয় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। লাবণী পয়েন্টের কিটকট ব্যবসায়ী হাফেজ আলতাফ হোসেন এবং বিচ বাইক চালক হাফিজ উদ্দিন জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে পর্যটকেরা হোটেল থেকে বের হতে পারছেন না। ফলে সারাদিন অপেক্ষা করেও কোনো ক্রেতা বা পর্যটক মিলছে না। পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এই সব ক্ষুদ্র শ্রমজীবী মানুষ।

 

শত কোটির আর্থিক ক্ষতি ও সামগ্রিক প্রভাব

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির মুখপাত্র আবিদ আহসান সাগর সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে বলেন, “টানা চার দিনের বৈরী আবহাওয়ায় কক্সবাজারে পর্যটকদের আগমন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এর চেইন-ইফেক্ট পড়েছে হোটেল-রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন এবং সৈকতকেন্দ্রিক ক্ষুদ্র ব্যবসাসহ পুরো পর্যটন শিল্পে। প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, গত চার দিনে এই খাতে প্রায় শত কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।”

সার্বিক পরিস্থিতিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সহায়তার বিষয়ে কক্সবাজার ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজমল হোসাইন দৈনিক পূর্বকোণকে জানান, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো পর্যটক হোটেলবন্দী হয়ে পড়লে বা কোনো প্রকার হয়রানি ও অসুবিধার সম্মুখীন হলে তাদের সহায়তায় ট্যুরিস্ট পুলিশ ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে বুকিং বাতিল বা পর্যটকদের সঠিক পরিসংখ্যানের সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ট্যুরিস্ট পুলিশের কাছে নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

পূর্বকোণ/সিজান

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট