টানা অতি ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার বিভিন্ন মাঠ পরিদর্শন এবং কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে এমন চিত্র দেখা গেছে।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষিজমির আউশ ধান ও অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। কোথাও ফসল আংশিক, আবার কোথাও সম্পূর্ণভাবে পানির নিচে চলে গেছে। বর্তমানে অধিকাংশ কৃষিজমিতে পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর সন্দ্বীপে প্রায় ৮,১৭০ হেক্টর জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। ফলে মোট ৮,২৭০ হেক্টর ধানচাষ টানা বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে রয়েছে।
এদিকে মাঠে থাকা গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন শাকসবজিও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে খালের মধ্যে বাঁধ দেওয়ায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারছে না। ফলে জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মৎস্য খাতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, টানা বর্ষণে ৪৩৫টি পুকুর (যার আয়তন আনুমানিক ৬৫ হেক্টর) প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক পুকুর থেকে মাছ বেরিয়ে যাওয়ায় স্থানীয় মৎস্যচাষীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
তবে কৃষকদের আশা, বৃষ্টি দ্রুত থেমে গিয়ে জমির পানি দ্রুত নেমে গেলে ফসল ও মাছের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই কমে আসবে। অন্যথায় আউশ ধান, আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি এবং মাছ চাষে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি হতে পারে।
পূর্বকোণ/পিআর















