সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মধ্যে বাকি সাতজনের মরদেহ অবশেষে দেশে আসছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী শনিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তাদের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের বরাত দিয়ে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।
দূতাবাস জানায়, রিয়াদ থেকে সব ধরনের ফ্লাইট সাময়িক স্থগিত থাকায় মরদেহগুলো প্রথমে সড়কপথে জেদ্দায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে সেখান থেকে কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হচ্ছে। শনিবার সকাল ৮টায় ফ্লাইটটির অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরের আইনি ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহগুলো নিহতের স্বজন ও প্রতিনিধিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আত্রাইয়ের ইউএনও মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার বিকেল বা সন্ধ্যার মধ্যে মরদেহগুলো নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছাতে পারে।
এর আগে গত ৯ আগস্ট রিয়াদের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন বাংলাদেশি শ্রমিক মারা যান। নিহতদের মধ্যে ১৩ জনই ছিলেন নওগাঁর, দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা এবং একজন রাজশাহীর বাগমারার বাসিন্দা। দুর্ঘটনার পর ২৭ আগস্ট প্রথম দফায় ৯ জনের মরদেহ দেশে পাঠানো হলেও আগুনে অতিরিক্ত পুড়ে যাওয়ায় বাকি সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
শনিবার যাদের মরদেহ দেশে আসছে তারা হলেন নওগাঁ সদরের পার নওগাঁ এলাকার মজনু রহমানের ছেলে শাহিন, আত্রাই উপজেলার ডুবাই গ্রামের নাজমুল হুদার ছেলে হাসিবুল হাসান শুভ, মধ্যবোয়ালিয়া গ্রামের আক্কাস প্রামাণিকের ছেলে মিনহাজ প্রামাণিক, মাধবপুর গ্রামের মজনু সরদারের ছেলে মাসিদুল সরদার সজিব, সাধনগর গ্রামের আজহার আলীর ছেলে সাগর আলী এবং নাটোরের নলডাঙ্গার দীঘিরপাড় গ্রামের জাকের আলীর ছেলে মোহাম্মদ শামীম ও খাজুরা গ্রামের রব্বানির ছেলে সাব্বির হোসেন।
পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ


















