চট্টগ্রাম সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬

সর্বশেষ:

হাইকোর্টের রায়ে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ

হাইকোর্টের রায়ে গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকার বকেয়া কর আদায়ের নির্দেশ

অনলাইন ডেস্ক

১২ অক্টোবর, ২০২৬ | ৯:২৪ অপরাহ্ণ

পাঁচটি অর্থবছরের বিপরীতে বকেয়া কর হিসেবে ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে গ্রামীণ কল্যাণের করা দুটি রিট খারিজ করে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়েছে। রায়ে আইন অনুযায়ী যত দ্রুত সম্ভব গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে এই বকেয়া কর আদায়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারসহ বিবাদীদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নোটিশ জারির মাধ্যমে আদায় প্রক্রিয়া শুরু করার এই সিদ্ধান্ত সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হলেন অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি চব্বিশের পাঁচ আগস্ট পরবর্তীতে গঠিত হওয়া অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মূলত ২০১২-১৩ থেকে ২০১৬-১৭ পর্যন্ত মোট পাঁচটি করবর্ষের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের কাছে পুনর্মূল্যায়নের পর ৬৬৬ কোটি টাকা প্রদেয় কর দাবি করে কর কর্তৃপক্ষ। এই দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণ হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করেছিল। চুক্তি অনুযায়ী গ্রামীণ টেলিকমের মাধ্যমে গ্রামীণফোনে বিনিয়োগ করে প্রাপ্ত লভ্যাংশের অংশ পাচ্ছিল গ্রামীণ কল্যাণ। তবে এই আয় ‘লভ্যাংশ’ নাকি ‘অন্যান্য উৎস থেকে আয়’- এ নিয়েই বিরোধের সূচনা হয়।

কর কর্তৃপক্ষের মতে, গ্রামীণ টেলিকম ও গ্রামীণ কল্যাণ দুটি পৃথক আইনি সত্ত্বা হওয়ায় তাদের আয়কর পৃথকভাবেই হিসাব করতে হবে। ওই অর্থ প্রকৃতপক্ষে লভ্যাংশ নয়, বরং অন্যান্য উৎস থেকে প্রাপ্ত আয়। তাছাড়া অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এ আয়ের বিপরীতে উৎসে কর কাটা হয়নি এবং সরকারি কোষাগারে তা জমা দেওয়ার প্রমাণও মেলেনি। অন্যদিকে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, গ্রামীণফোনে বিনিয়োগের পর প্রাপ্ত লভ্যাংশ থেকেই ইতোমধ্যে কর কাটা হয়েছে। ফলে একই আয়ের ওপর পুনরায় কর দাবি করা দ্বৈত কর আরোপের শামিল।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে হাইকোর্ট জানান, কর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত আইনসম্মত এবং বকেয়া দাবি করার প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বৈধ। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী উপ কর কমিশনার খুব দ্রুতই ৬৬৬ কোটি টাকা আদায়ের জন্য গ্রামীণ কল্যাণের ওপর নোটিশ জারি করবেন। তবে হাইকোর্টের এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী জানিয়েছেন, রায়ের প্রত্যায়িত অনুলিপি পাওয়ার পর তারা রায় স্থগিত চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন (লিভ টু আপিল) করবেন।

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট