চট্টগ্রাম সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

১৭ বছরের জঞ্জাল ৬ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংসদে জ্বালানি সংকটের প্রশ্নে

১৭ বছরের জঞ্জাল ৬ মাসে পরিষ্কার সম্ভব নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১০:৩৩ অপরাহ্ণ

বিদ্যুৎ খাতে আর কোনো ‘ক্যাপাসিটি চার্জ’ (উৎপাদন না করলেও কেন্দ্র ভাড়ার টাকা) দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, নতুন করে যে তিনটি রেন্টাল পাওয়ার কোম্পানিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, তা ‘নো পাওয়ার, নো মানি’ বা ‘বিদ্যুৎ দিলে টাকা, না দিলে নাই’ ভিত্তিতে করা হয়েছে।

 

অর্থাৎ কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হবে না।

 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের উত্থাপিত প্রস্তাবে‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

 

বিরোধী দলের উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই সারা পৃথিবীতে গালফ ওয়ারের (উপসাগরীয় যুদ্ধ) প্রভাবে জ্বালানি সংকট শুরু হয়। তা সত্ত্বেও বোরো মৌসুমে কৃষকদের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, সেজন্য সরকার ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম এক পয়সাও বাড়ায়নি।

 

পরবর্তীতে পাচার রোধে বাধ্য হয়ে সহনীয় মাত্রায় দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার কোনো ক্ষতিকর প্রভাব দেশের অর্থনীতি বা বাজেটে পড়েনি।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত সরকার গ্যাস বা জ্বালানি কোথা থেকে আসবে, তা নিশ্চিত না করেই একের পর এক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করেছে। দেশের ভেতরে গ্যাস অনুসন্ধান না করে তারা বিদেশ নির্ভরতা বাড়িয়েছে। শুধু নিজেদের দলের টাইকুন বা লুটেরাদের প্রতিপালন করার জন্য তারা বিদেশ থেকে গ্যাস আমদানির ব্যবস্থা করেছে।’

 

ক্যাপাসিটি চার্জ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এই ক্যাপাসিটি চার্জের বিষয়টি ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা রেখে গিয়েছেন, যা আমরা ইনহেরিট (উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত) করেছি। কিন্তু এখন বিদ্যুতের প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রী যে নতুন রেন্টাল পাওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন, সেখানে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ নেই।’

 

রাতারাতি চুক্তি বাতিলের সুযোগ নেই
বর্ডার পেরিয়ে বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি ওভার প্রাইজড (অতিরিক্ত দাম) দিয়ে জাতির পয়সা অপচয় করে বিদ্যুৎ আমদানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা যদি এখন সেই চুক্তি বন্ধ করে দেই, তবে বিষয়টি আন্তর্জাতিক আর্বিট্রেশনে (সালিশি) যাবে এবং বিদ্যুৎ সাপ্লাই বন্ধ হয়ে যাবে। এমনিতেই আমাদের বিদ্যুতের সংকট, এই মুহূর্তে আমরা ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ হারানোর ঝুঁকি নিতে পারি না। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধৈর্য সহকারে এগোতে হয়।’

 

সংকট সমাধানে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা
জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাতারবাড়ীতে ল্যান্ড বেইজড (স্থলভিত্তিক) এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে প্রায় এক হাজার এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া যাবে। চায়নার সঙ্গে জি-টু-জি ভিত্তিতে মাতারবাড়ীতে ১৮ মাসের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ (ভাসমান টার্মিনাল) স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বড়পুকুরিয়ায় দেশীয় কয়লা দিয়ে ৬২০ মেগাওয়াটের নতুন একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করা হবে। পায়রায় দ্বিতীয় ধাপে ১৩২০ মেগাওয়াটের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের আলোচনা চলছে। মাতারবাড়ীতে এলপিজি গ্যাসের টার্মিনাল ও স্টোরেজ নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উইন্ডমিলের (বায়ুবিদ্যুৎ) বড় পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

 

তিনি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছরের জঞ্জাল, ফ্র্যাজাইল (ভঙ্গুর) ব্যাংকিং, ফ্র্যাজাইল বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আমরা ইনহেরিট করেছি। ছয় মাসের ভেতরে এই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা ওভারহলিং করে (ঢেলে সাজানো) সব সমস্যার সমাধান করে ফেলা সম্ভব নয়। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেছেন, মানুষের যে ভোগান্তি হচ্ছে তা আমাদের সৃষ্ট নয়, এটি বিগত সরকারের রেখে যাওয়া জঞ্জালের ফল।’

 

পূর্বকোণ/রাকিব/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট