চট্টগ্রাম রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সর্বশেষ:

কোম্পানি বন্ধ করে কোনো দেশের অর্থনীতি চলতে পারে না: অর্থমন্ত্রী

কোম্পানি বন্ধ করে কোনো দেশের অর্থনীতি চলতে পারে না: অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক

৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | ১০:৫৬ অপরাহ্ণ

ব্যক্তির অপরাধের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আবেগের ওপর অর্থনীতি চলে না, অর্থনীতি চলতে হবে আইনের ওপর।

 

রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে নতুন করে ঋণ দেওয়ার বিষয়ে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

 

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ উল্লেখ করেন, শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান এস আলমের মালিকানাধীন এসএস পাওয়ারকে ৩১ লাখ ৯৭ হাজার ৫৬১ ডলারের এলসি খোলার অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে বর্তমানে ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। তিনি প্রশ্ন রাখেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে নিলামে না তুলে বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত না করে বিশেষ ঋণ দিয়ে সরকার ঋণখেলাপিদের উৎসাহিত করছে কি না এবং এর ফলে বিদেশি ঋণদাতারা অনুৎসাহিত হবে কি না?

 

জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনীতি পরিচালনার সুনির্দিষ্ট নীতি রয়েছে। ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পরিচয় সম্পূর্ণ আলাদা। বাংলাদেশ ব্যাংক আইন ভঙ্গ করে কাউকে কোনো ঋণ দিচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যেখানে পুনঃ তফসিলের সুযোগ আছে, সেখানে করতে দেওয়া হচ্ছে। আইনের পরিপ্রেক্ষিতে সে সুযোগ যে কোম্পানিগুলো নিতে পারে, তারা নেবে। যারা নিতে পারবে না, নেবে না। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে যারা দুর্নীতিগ্রস্ত, তাদের বিচার হবে এবং তা চলছে।’

 

দুর্নীতির অভিযোগে কোম্পানির মালিকদের বিচার চলমান রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আপনি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা করতে পারবেন, তাকে জেলে দিতে পারবেন, ফাঁসিও হতে পারে। বাট দ্য কোম্পানি ইজ আ লিগ্যাল বডি, কোম্পানিকে সেপারেট করে… কোম্পানির কার্যক্রম চলতে দিতে হবে, সেটা যে কোম্পানিই হোক।’

 

প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিকতা ও কর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশে যেকোনো কোম্পানিকে কোনো ব্যক্তির কারণে বন্ধ করে দিলে সেই কোম্পানিতে লোকজন চাকরি করে, সেই কোম্পানির দায় আছে, ঋণ পরিশোধ করতে হবে। অর্থনীতিতে সেই কোম্পানির কন্ট্রিবিউশন আছে। এমপ্লয়মেন্টের ক্ষতি করে, কোম্পানি বন্ধ করে দিয়ে কোনো দেশের অর্থনীতি চলতে পারে না।’

 

রাষ্ট্রায়ত্ত ৬ ব্যাংকে খেলাপি ঋণ পৌনে ১.৫০ লাখ কোটি টাকা

 

জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, রাষ্ট্রায়ত্ত ছয়টি ব্যাংকে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৬ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। ব্যাংকগুলো হলো—সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল)।

 

ব্যাংকভিত্তিক খেলাপি ঋণের চিত্রে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি খেলাপি ঋণ রয়েছে জনতা ব্যাংকে, যার পরিমাণ ৭৫ হাজার ৩৯৬ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ ছাড়া অগ্রণী ব্যাংকের ২৯ হাজার ২৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা, রূপালী ব্যাংকের ১৯ হাজার ১৯৮১ কোটি ৭৪ লাখ, সোনালী ব্যাংকের ১৫ হাজার ৪৮ কোটি ৩৯ লাখ, বেসিক ব্যাংকের ৮ হাজার ১৩১ কোটি ৯ লাখ এবং বিডিবিএলের খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৮৮৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা।

 

মাথাপিছু ঋণ ১ লাখ ২৯ হাজার টাকা

কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহাম্মেদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা।

 

ঋণের চাপ কমাতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, সরকারি অর্থের দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং সুশৃঙ্খল ঋণ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজারভিত্তিক ঋণ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদে জনগণের ওপর ঋণের চাপ কমানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

 

পূর্বকোণ/রানা/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট