চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পেয়ে নগরীর রিয়াজ উদ্দিন বাজারের একজন ব্যবসায়ীকে বেধড়ক মারধর করে কারাগারে পাঠিয়েছিলেন সাতকানিয়া থানার দুই উপ পরিদর্শক। ঘটনাটি ঘটেছিল ২০১৪ সালের মে মাসে। দুই মাস কারভোগের পর জামিনে বের হন পারভেজ নামের ওই ব্যবসায়ী। সম্প্রতি ওই ব্যবসায়ী আদালতে লিখিত অভিযোগ করলে বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি মামলা হিসাবে রেকর্ড করার জন্য আদেশ দেন। মামলাটি তদন্ত করে আগামী ১৫ অক্টোবরের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন আদালত। গত ১ সেপ্টেম্বর দুই এসআইকে এজাহারভুক্ত করে সাতকানিয়া থানায় হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলাটি রেকর্ড করা হয়। গতকাল রবিবার বিষয়টি জানাজানি হয়। মামলার দুই আসামি হলেন, সাতকানিয়া থানার তৎকালীন দুই এস আই সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এস আই ফজলু। তারেক বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশে এবং ফজলু ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশে কর্মরত আছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরো পাঁচ ছয়জন পুলিশ সদস্যকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, মোহাম্মদ পারভেজ একজন ব্যবসায়ী। ২০১৪ সালের ২৬ মে বেলা সাড়ে ১২টার সময় তিনি সাতকানিয়ার এওচিয়া ইউনিয়নের জোট পুকুরিয়া বাজারে ছিলেন। ওই সময় সাতকানিয়া থানার এস আই সৈয়দ তারেক ইমরোজ ও এসআই ফজলুসহ পাঁচ ছয়জন পুলিশ সদস্য এসে পারভেজকে আটক করে। আটকের পর পরই তারা মারধর করে গাড়িতে তুলে পারভেজকে সাতকানিয়া থানায় নিয়ে যায়। থানায় নিয়ে দ্বিতীয় দফায় মারধর করে। তখনো পারভেজকে বলা হয়নি তার অপরাধ কি। এক পর্যায়ে এসআই ইমরোজ বলেন- দুই লাখ টাকা দিলে মামলা হালকা করে দিয়ে তোকে আদালতে পাঠাবো।
পারভেজ বলেন, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে থানার মেঝেতে শুইয়ে দুই হাতের মাঝখানে কাঠের লাঠি ঢুকিয়ে হাত থেতলে দেয়। এতে তার হাতের মাংস ছিঁড়ে যায় যার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন। পরদিন (২৮ মে ২০১৪) তাকে সাতকানিয়া সার্কেলের এসপির রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এসআই ইমরোজ ও এসআই ফজুল ফের মারধর করে। অতিরিক্ত মারধর করার কারণে পারভেজের বাম কান দিয়ে রক্ত বের হয়। বাম কানের শ্রবণ শক্তি নষ্ঠ হয়ে যায়। তাকে থানা হাজতে না রেখে অন্য একটি রুমে হাত ও পায়ে হ্যান্ডকাপ পরিয়ে একটি কাঠের চেয়ারের সাথে আটকে রাখে।
পারভেজ জানান, দুই দিন মারধর করার পর ২০১৪ সালের ২৯ মে দুপুরে তাকে সাতকানিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসক ওষুধ লিখে দিলেও এসআই ইমরোজ ওষুধ না দিয়ে তাকে আদালতে প্রেরণ করে। পরবর্তীতে তিনি দুই মাস তিনদিন কারাভোগ করেন। মারধরের আঘাতের ব্যথার কারণে কারাগারে থাকাকালীন সময় পারভেজ কোন কাপড় পরতে পারেননি। ইনফেকশনের কারণে শরীর থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি বের হয়। বাম হাতের বাহুর নিচের অংশে মাংস ছিঁড়ে যায়।
মামলার এজাহারে পারভেজ বলেন, ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে ২৯ মে পর্যন্ত টানা চারদিন তাকে অবৈধভাবে আটকে রেখে মারধর করা হয়। সেই সময় থাকে বলা হয়েছিল ‘তোকে বিশেষ কারণে আটক করা হয়েছে’। আটক করার জন্য আমরা দুই লাখ টাকা পেয়েছি। তুই দুই লাখ টাকা দিলে ছেড়ে দিতে পারি। কারাগার থেকে জামিনে বের হবার পর বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বরাবরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাইনি। কিন্তু আইজিপির কাছে অভিযোগ দেয়ার কারণে চলতি বছরের ১০ এপ্রিল রাত নয়টার সময় পারেভেজের বাড়ির সামনে পাঁচ ছয়জন লোক নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে পারভেজের বাড়িতে এসে ডাকাডাকি করেন। প্রতিবেশীসহ ঘর থেকে বের হলে তারা চলে যায়।
পূর্বকোণ/ইবনুর


















