ইরানের সাত দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে পুনরায় বোমাবর্ষণ শুরু করার পরিকল্পনার কথা নিজ সহকারীদের জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে চলমান সংঘাত নিরসনে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত শর্ত মেনে নিলে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধ বন্ধের কথা জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার জাতিসংঘে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানান, কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পাঠানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে আন্তরিক হলে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আব্বাস আরাগচি বলেন, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের। ইরান কোনো ধরনের চাপ, হুমকি বা ভয়ভীতি মেনে নেবে না এবং চাপের মুখে নিজেদের সার্বভৌম অধিকারও বিসর্জন দেবে না। তবে এর কয়েক ঘণ্টা পরই দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানায়, ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তেহরান নিজেদের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ইরানে আবারও হামলা চালানোর দিকেই এগোচ্ছেন ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রকে নৌ অবরোধ তুলে নিতে হবে, তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে এবং লেবাননসহ পুরো অঞ্চলে যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে হবে। এসব শর্ত পূরণ করা হলে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনায় ফেরার প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান।
এর আগে গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ বন্ধে ১৪ দফার একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন। ওই চুক্তিতে লেবাননসহ বিভিন্ন এলাকায় সামরিক অভিযান বন্ধ এবং ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর কথা ছিল।
তবে ৮ জুলাই ট্রাম্প ওই চুক্তি বাতিলের ঘোষণা দেন। এর এক সপ্তাহ পর ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলে তেহরানও সমঝোতা স্মারক স্থগিত করে। এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, মার্কিন কর্মকর্তারা মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
পূর্বকোণ/নুসরাত

















