চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২৬

সর্বশেষ:

মাত্র ৬ হাজার টাকায় নির্মিত সিনেমার আয় ২৬ কোটি টাকা!

৬ হাজার টাকায় সিনেমা বানালেন মা-ছেলে, আয় ২৫ কোটি টাকা!

অনলাইন ডেস্ক

২০ আগস্ট, ২০২৬ | ৬:৫৯ অপরাহ্ণ

প্রচারণা নেই, ছিল না কোনো ট্রেলারও। বাজে নির্মাণের জন্য তোপের মুখে পড়ে সিনেমা ফ্লপ হওয়ার ঘটনাই স্বাভাবিক। তবে চরম নিম্নমানের গ্রাফিক্স ও দুর্বল নির্মাণের কারণে ট্রোলের শিকার হয়ে প্রেক্ষাগৃহে দর্শক টানার এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে চীনে!

 

নেটিজেনদের ট্রোল আর বিদ্রূপের জোরে মাত্র ৬ হাজার টাকা বাজেটে তৈরি ‘নিউ লাই’ নামের এক স্বল্প বাজেটের অ্যানিমেশন সিনেমা এখন বক্স অফিসে ঝড় তুলে আয় করে নিয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা! টানা ৫ বছর পরিশ্রম করে মা ও ছেলে  ছবিটি তৈরি করেছেন। 

 

মুভি ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ‘মাও ইয়ান’-এর তথ্য অনুযায়ী, চীনা মুদ্রায় মাত্র ৪৭ ডলার বা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫,৭০০ টাকা খরচে নির্মিত ‘নিউ লাই’ সিনেমাটি মুক্তির প্রথম ১০ দিনে আয় করেছিল মাত্র ১,১৩৮ ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা)।

 

কিন্তু হঠাৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় এর বাজে গ্রাফিক্স ও দুর্বল নির্মাণশৈলী নিয়ে ব্যাপক ট্রোল শুরু হয়। আর সেই বিদ্রূপের রেশ ধরেই রূপ নেয় এক অভাবনীয় ট্রেন্ডে! বর্তমানে সিনেমাটির মোট আয় ১৪.৯ মিলিয়ন ইউয়ান অর্থাৎ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এমনকি প্রেক্ষাগৃহে এটি ‘দ্য ওডিসি’ কিংবা ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র মতো বিগ বাজেটের হলিউড ব্লকবাস্টার ছবির সঙ্গেও টেক্কা দিচ্ছে।

 

চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক জনপ্রিয় পোস্টে এক দর্শক লিখেছেন, ‘সিনেমাটি দেখলে আপনি হয়তো ৮০ মিনিটের জন্য অনুশোচনা করবেন, কিন্তু না দেখলে অনুশোচনা থেকে যাবে সারাজীবনের জন্য!’

 

বর্তমান যুগে যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে নিখুঁত অ্যানিমেশন তৈরি হচ্ছে, তখন নেটিজেনদের একাংশ এটিকে রসিকতা করে ‘হাতে তৈরি হস্তশিল্প’ বলে অ্যাখ্যা দিচ্ছেন। এটি যে নিখুঁত এআই নয়, বরং মানুষের তৈরি আনাড়ি হাতের কাজ—তা দেখাতেই মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সিনেমাটির ক্লিপ শেয়ার করা শুরু হয়।

 

ছবিটি জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে চীনের শেয়ার বাজারের এক অদ্ভুত মনস্তাত্ত্বিক কারণও খুঁজে পেয়েছেন নেটিজেনরা। চীনা ভাষায় ‘ষাঁড়’ ও ‘গরু’—দুটিকেই একই বর্ণ বা শব্দ দিয়ে বোঝানো হয়। আর শেয়ার বাজারের চাঙ্গা ভাবকে বলা হয় ‘বুলিশ মার্কেট’। ফলে শেয়ার বাজারে পজিটিভ সূচকের প্রত্যাশায় কেবল সিনেমাটির ‘গরু’ কেন্দ্রিক নামের খাতিরেই বহু বিনিয়োগকারী টিকিট কেটে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটিকে সমর্থন জানাচ্ছেন!

 

নামমাত্র বাজেটে নির্মিত সিনেমাটির মুক্তির আগে কোনো প্রচার-প্রচারণা বা অফিশিয়াল পোস্টারও প্রকাশ করা হয়নি। হঠাৎ চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ায় প্রেক্ষাগৃহগুলো প্রদর্শনী বাড়াতে বাধ্য হয়েছে। পোস্টার না থাকায় অনেক হলের কর্মীরা নিজ হাতে পোস্টার একে টিকিট কাউন্টারে টাঙিয়ে দিচ্ছেন!

 

তবে সবাই কিন্তু এই সাফল্যকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন না। চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ‘বেইজিং নিউজ’-এর এক সম্পাদকীয়তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, কেবল উপহাস বা ট্রেন্ডের বশে এভাবে প্রদর্শনীর সংখ্যা বাড়িয়ে নিম্নমানের সিনেমা প্রচার করলে সিনেমা হলগুলো সাধারণ দর্শকদের দীর্ঘমেয়াদি বিশ্বাস হারাতে পারে।

পূর্বকোণ/নুসরাত

শেয়ার করুন