চট্টগ্রাম মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

সর্বশেষ:

খাদ্য কর্মকর্তা পরিচয়ে ত্রান দেবার আশ্বাসে টাকা হাতিয়ে প্রতারণা!

খাদ্য কর্মকর্তা পরিচয়ে ত্রান দেবার আশ্বাসে টাকা হাতিয়ে প্রতারণা!

সীতাকুণ্ড সংবাদদাতা

১৪ জুলাই, ২০২৬ | ১০:১৫ অপরাহ্ণ

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বন্যা কবলিত মানুষকে জেলা খাদ্য অধিদপ্তর থেকে নগদ অর্থ ও সামগ্রী প্রদানের লোভ দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশনের নামে ২৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি প্রতারক চক্র।

 

কয়েকদিনে বিভিন্ন এলাকার মানুষ প্রতারকদের ফাঁদে পড়ে টাকা দেবার পর আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) তারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পারলে হতাশ হয়ে পড়েন। এতে বিষয়টি জানাজানি হয়।

 

জানা যায়, সীতাকুণ্ডের বন্যা কবলিত অঞ্চলগুলোতে গত ৭-৮দিন ধরে শুকনো খাবার, রান্না করা খাবার বিতরণ করছিলো উপজেলা প্রশাসন। উপজেলা পি.আই.ও কার্যালয়ও এ কাজে সরাসরি সম্পৃক্ত থেকে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এমনি অবস্থায় বন্যা কবলিত মানুষের অসহায় অবস্থার সুযোগ নিয়ে গত কয়েকদিন একটি প্রতারক চক্র বিভিন্ন ইউনিয়নে কয়েকজন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে সেসব এলাকায় বন্যা কবলিতদের নগদ ১০ হাজার টাকা ও খাদ্য সামগ্রী দেবার প্রলোভন দেখিয়ে অসহায় ব্যক্তিদের তালিকা তৈরি করতে বলেন। প্রতারকরা নিজেদের পরিচয় দেন চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগের অফিসার তানভীর হাসান (মোবাইল-০১৩৩৭৫৭৩৬৩৮) এবং এস এম মাসুদ (মোবাইল-০১৭৫৬৮৬২৩৮৯)। এক পর্যায়ে তালিকা তৈরি হলে তারা সংশ্লিষ্টদের বলেন, এই অনুদান পেতে জনপ্রতি ৪২০ টাকা করে রেজিস্ট্রেশন ও অফিস খরচ পাঠাতে হবে। এই টাকা বিকাশে দিলে তাদের নগদ টাকা ও ত্রান সামগ্রী পাঠিয়ে দেয়া হবে। তাদের কথায় বিশ্বাস করে উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের যুবক সোহেল এলাকার বিভিন্ন পানিবন্দি ও দুস্থ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করে ১৬ হাজার দুইশত টাকা, মুরাদপুর ইউনিয়নের ফারুক ৬ হাজার তিনশ এবং সৈয়দপুরের মানিক ৬ হাজার তিনশ টাকাসহ মোট ২৯ হাজার টাকা প্রতারকদের বিকাশ নম্বরে পাঠান। কিন্তু এরপরই তাদের নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। এতে তারা বুঝতে পারেন যে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন।

 

এ ব্যাপারে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক (কারিগরী) চট্টগ্রাম এর কর্মকর্তা রাজীব কুমার দে বলেন, চট্টগ্রাম জেলা খাদ্য বিভাগের অফিসে তানভীর হাসান ও এস এম মাসুদ নামে কেউ নাই। এরকম পরিচয় কেউ দিলে তারা নিশ্চিত প্রতারক। এই অফিস থেকে এভাবে নগদ টাকা বা ত্রাণ দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। খাদ্য অফিস থেকে যে ত্রাণ দেওয়া হয় সেটা জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হস্তান্তর করা হয়। একটি প্রতারক চক্র এ দুর্যোগের সময়েও প্রতারণা করে যাচ্ছে, এটি দুঃখজনক। এ ব্যাপারে সবাইকে সর্তক থাকতে হবে।

 

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, ত্রান সহযোগিতা প্রদানের জন্য সরকার কারো কাছ থেকে এক টাকাও নেয় না। আর যেকোন ধরণের সরকারি ত্রান উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরণ করা হয়। এই সময়ে এসেও যদি টাকা দিতে কেউ বলে আর অসচেতন হয়ে কাউকে টাকা দিয়ে প্রতারিত হয়ে যায় তাহলে কিছু বলার থাকে না। এ ধরনের কোন সাহায্য সহযোগিতার নামে কেউ টাকা চাইলে সরাসরি ইউএনওর সাথে যোগাযোগ করার জন্য তিনি অনুরোধ করেন।

 

পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট