চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে এখনো হাজার হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন।
আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুর দুইটার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশখালা গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ করা হয়।
ত্রাণ বিতরণকালে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেন, বর্তমানে সরকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে এবং সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এই দুর্যোগ মোকাবেলা করছে। তিনি জানান, যে স্থানে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে, সেখানে আগে কোমর পরিমাণ পানি ছিল। পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির পানিতে হাজার হাজার মানুষ এখনো বন্দি হয়ে আছেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, আগের সরকারের আমলে খাল ও নদী ভরাট করে মাছ চাষের ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার কারণে এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বন্যার সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে রিজভী শিক্ষামন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, “ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা কয়দিন বন্ধ রাখলে কি হতো? বন্যার এই সময়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীরা পানিতে পড়ে যাচ্ছে”। তিনি এই সময়ে পরীক্ষা বন্ধ না রাখায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বন্যার পরবর্তী সময়ে চর্মরোগসহ বিভিন্ন রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে বলে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মাওলানা জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিশকাতুল ইসলাম পাপ্পা এবং সদস্য সচিব লায়ন মো. হেলাল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি) কামরুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি সদস্য মাস্টার লোকমান ও দেলোয়ার আজিম, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহেদ, উপজেলা সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান চৌধুরী এবং সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন খলিলসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
পূর্বকোণ/সিজান/পারভেজ















