চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

৩ দিন পর মুক্তিপণ দিয়ে টেকনাফে ফিরেছেন অপহ্রত ব্যবসায়ী

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচয়ে অপহরণ, ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরলেন ব্যবসায়ী

টেকনাফ সংবাদদাতা

১৮ জুন, ২০২৬ | ৫:৩৭ অপরাহ্ণ

কক্সবাজারের টেকনাফে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে তিনদিন আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ ওঠেছে।

পরিবারের দাবি, অপহরণকারীরা ২ লাখ ২০ হাজার টাকা আদায়ের পর ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় ওই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়।

তাকে বুধবার (১৭ জুন) তাকে ছেড়ে দিলে তিনি আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় টেকনাফে বাড়িতে পৌঁছে।

ভুক্তভোগী মো. এনাম (২১) টেকনাফ সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ লেংগুরবিল আদর্শ গ্রাম এলাকার জহির আহমদের ছেলে।

তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদির দোকান পরিচালনা করেন।

পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গত ১৫ জুন দুপুর ২টায় দুই ব্যক্তি নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে এনামের দোকানে আসে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা এনামকে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নস্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পায়নি।

এনামের বড় ভাই মো. আমিন জানান, অপহরণকারীরা তার ভাইকে টেকনাফ থেকে একটি প্রাইভেটকারে করে ঢাকায় নিয়ে যায়। পুরো পথজুড়ে তার মুখ কসটেপ দিয়ে বেঁধে গাড়ির পেছনের অংশে শুইয়ে রাখা হয়। পরে ঢাকার ১০ নম্বর সেক্টরের একটি অজ্ঞাত স্থানে দুইদিন আটকে রেখে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

তিনি আরও জানান, অপহরণকারীদের নির্দেশ অনুযায়ী সিটি ব্যাংকের মাধ্যমে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা পাঠানো হয়। টাকা পাওয়ার পর গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকায় আমার ভাইকে ছেড়ে দেয়া হয়। পরে একটি পরিবহন কাউন্টার থেকে সে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যাতায়ত খরচ পাঠানোর পর বৃহস্পতিবার সকালে সে টেকনাফে ফিরে আসে।

পরিবারের অভিযোগ, অপহরণকারীরা এনামের ওপর শারীরিক নির্যাতনও চালিয়েছে। তবে তার জীবন রক্ষার স্বার্থে এবং অপহরণকারীদের হুমকির কারণে মুক্তিপণ দেয়ার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়নি। অপহরণকারীরা হুমকি দিয়েছিল, প্রশাসনকে জানানো হলে তাকে হত্যা করা হবে। তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ কিংবা আর্থিক বিরোধ ছিল না। একজন সাধারণ ব্যবসায়ীকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা পরিবারকে হতবাক করেছে।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কাজ চলছে। তবে মুক্তিপণ দিয়ে ভুক্তভোগীকে ফিরিয়ে আনার বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয় নি। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।

পূর্বকোণ/আদর/এএইচ

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট