চট্টগ্রাম বৃহষ্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬

সর্বশেষ:

এক বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি ভারতের

এক বছরে ৫৪ হাজার কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম বিক্রি ভারতের

অনলাইন ডেস্ক

১৮ জুন, ২০২৬ | ৪:৫৮ অপরাহ্ণ

বিশ্বজুড়ে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনের শক্তিশালী কেন্দ্র হতে যাচ্ছে ভারত। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভেঙে গেছে দেশটির প্রতিরক্ষা খাতের সব রেকর্ড। গত এক বছরে ৩৮ হাজার ৪২৪ কোটি টাকার প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানি করেছে দেশটি যা (প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা )। গত অর্থবছরে যা ছিল ২৩ হাজার ৬২২ কোটি রুপি। অর্থাৎ, মাত্র এক বছরেই রপ্তানি বেড়েছে ৬২.৬৬ শতাংশ।

 

ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত সর্বকালের সেরা রেকর্ড করেছে। গত অর্থবছরের তুলনায় দেশটিতে এ আয়ের ৬২ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এ বছর ১৪ হাজার ৮০২ কোটি টাকা বাড়তি আয় হয়েছে। রপ্তানির পাশাপাশি দেশটিতে সামরিক সরঞ্জাম তৈরিও বেড়েছে বহু গুণ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারতের নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১.৭৮ লাখ কোটি রুপি।

 

মোট রপ্তানির ৫৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ রাষ্ট্রীয় প্রতিরক্ষা সংস্থাগুলো (ডিপিএসইউ) খাত থেকে এসেছে। এছাড়া বেসরকারি খাত থেকে ৪৫ দশমিকি ১৬ শতাংশ এসেছে। গত বছরের তুলনায় ভারতের রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর রপ্তানি ১৫১ শতাংশ বেড়েছে। এ সময়ে বেসরকারি খাতের রপ্তানি ১৪ শতাংশ বেড়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে বিশ্ববাজারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে ভারতীয় সামরিক পণ্যের চাহিদা।

 

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘আর্মোরির’ প্রতিষ্ঠাতা অমরদীপ সিং বলেন, নতুন এ রেকর্ড ভারতের প্রতিরক্ষা খাতের গভীর পরিবর্তনের প্রতিফলন দেখা দিয়েছে। বিশ্ব এখন বদলে গেছে। যুদ্ধ এখন অনেক দ্রুতগতির এবং প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে।

 

ড্রোন, সাইবার সিস্টেম, এআই নজরদারি এবং ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের গুরুত্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিজস্ব সক্ষমতা অর্জন এখন জাতীয় প্রয়োজনে পরিণত হয়েছে। এটি এখন আর কৌশলগত পছন্দে সীমাবদ্ধ নেই।

 

তিনি আরও বলেন, ভারত এখন ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং, সফটওয়্যার এবং সেন্সরের মতো প্রতিটি স্তরে নিজস্ব সক্ষমতার জানান দিচ্ছে। আমাতের পরবর্তী ধাপ হবে প্রযুক্তির উদ্ধাবন এবং পরীক্ষা করা।

 

কৃষ্ণা ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যালাইড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (কেডিএঅোইএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক অঙ্কুর শাহ বলেন, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন নিজেদের গণ্ডি পেরিয়ে বহুদূরে এগিয়েছে। রেকর্ড উৎপাদন ও রপ্তানি এটিই প্রমাণ করছে।

 

তওরাল ইন্ডিয়া কোম্পানির এমডি ও সিইও ভারত গিতে জানিয়েছেন, তারা সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর জন্য জটিল অ্যালুমিনিয়াম কাস্টিং তৈরি করছেন। তারা ইনফ্যান্ট্রি কমব্যাট ভেহিকেলের জন্য দেশীয় প্রযুক্তিতে সিলিন্ডার ব্লক ক্র্যাঙ্ককেস তৈরি করেছেন। এর ফলে শেষ হয়েছে রাশিয়ার ওপর ভারতের গত ৩৪ বছরের আমদানি নির্ভরতা। এতে বছরে সাশ্রয় হচ্ছে দেশের প্রায় ১০.৫ কোটি রুপি।

 

শিল্ড এআইয়ের সার্জন শাহ জানিয়েছেন, যৌথভাবে কাজ করছে শিল্ড এআই ও জেএসডব্লিউ ডিফেন্স। তারা হায়দরাবাদে ৯ কোটি ডলার বিনিয়োগে চালু করছে ড্রোন তৈরির কারখানা। তাদের হাইভমাইন্ড সফটওয়্যারটি ভারতীয় বাহিনীকে স্বয়ংক্রিয় মিশন পরিচালনায় সাহায্য করবে বলে।

 

পরিসংখ্যান বলছে, গত পাঁচ বছরে ভারতের প্রতিরক্ষা রপ্তানি আয় প্রায় তিনগুণ বেড়েছে। ২০২২ সালে প্রতিরক্ষা আয় ছিল ১২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা। বর্তমানেন এ আয় ৩৮ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।

 

তবে সংশ্লিষ্ট খাতের নেতারা মনে করেন, আসল চ্যালেঞ্জ হলো এই গতি ধরে রাখা। এখন লক্ষ্য হওয়া উচিত শতভাগ দেশীয় প্রযুক্তি বানানো, যা বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে দারুণ কাজ করবে।

 

এই হিসাব একটি বিষয় পরিষ্কার করে দিয়েছে, ভারত বিশ্বের বুকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অন্যতম বড় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক হয়ে উঠছে।

পূর্বকোণ/আদর

শেয়ার করুন

সম্পর্কিত পোস্ট