খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় নিউজিল্যান্ড খ্যাত তারাবনিয়া বিল এখন দর্শনীয় স্থান। প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে এখানে অসংখ্য মানুষের সমাগম ঘটে। আগত দর্শনার্থীদের জন্য এখানে রয়েছে পাহাড়ি পিঠাপলিসহ হরেক রকম সুস্বাদু খাবারের আয়োজন। বিলের চারপাশে সবুজ শ্যামল গ্রামীণ পরিবেশ আর মাঝখানে পাহাড়ি নারীদের অসংখ্য ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান। এ যেনো গ্রাম বাংলার প্রকৃতির এক অনন্য চিরচেনা রূপ।
যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করে এমন মনোরম পরিবেশে সুস্বাদু পাহাড়ি খাবারের স্বাদ নিতে কারই বা ভালো না লাগে। তাই তো প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে নারী পুরুষ ও শিশু কিশোরসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষের কোলাহলে মুখর হয়ে উঠে নিউজিল্যান্ড খ্যাত এই সবুজ শ্যামল প্রান্তর। উপজেলার হাচিনসনপুর-ডুলুছড়ি সড়কে নিউজিল্যান্ড খ্যাত এই বিলের অবস্থান। এই বিলের চারিপাশ ঘিরে রয়েছে সবুজ বনবীথির আবরণে ঢাকা দৃষ্টিনন্দন অসংখ্য পাহাড়ি বসতবাড়ি। তাদের বৈচিত্র্যময় জীবনধারা বিলের সবুজ-শ্যামল সমারোহকে করে তুলেছে আরও বেশি মোহনীয়।
বিশাল আয়তনের এই বিলের বুকচিরে বয়ে গেছে এঁকেবেঁকে চলা পিচঢালা গ্রামীণ মেঠোপথ। পাশেই বহমান খরস্রোতা মাইনি নদী। গোধূলি লগ্নে এই বিলে চোখে পড়ে ক্লান্ত কৃষাণ কৃষাণীর বাড়ি ফেরার সেই চিরচেনা দৃশ্য। মাঝেমধ্যে কানে বাজে মাথার ওপর দিয়ে দলবেঁধে নীড়ে ফেরা পাখিদের কলকাকলি। দূর সীমানায় ডানা মেলে উড়তে দেখা যায় সাদা বকের দল। গ্রাম-বাংলার এই চিরচেনা রুপ ক্যামেরা বন্দী করে রাখতে এখানে এখানে আসেন অনেক দর্শনার্থী। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নয়নাভিরাম গ্রামীণ পরিবেশে গৃহস্থালি কাজের ফাকে এখানে বিকিকিনি করছেন পাশের গ্রামের অসংখ্য পাহাড়ি নারী। তাদের এই ভ্রাম্যমাণ দোকানে মেলে কলাপিঠা, ভরাপিঠা, বিনিপিঠা ও ছাইন্যাপিঠাসহ হরেক রকম সুস্বাদু খাবার।
কথা হয় তাদেরই একজন তারাবনিয়া গ্রামের প্রিয়াংকা দেওয়ানের সাথে। তিনি জানান, প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে এখানে অসংখ্য দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। তাই গৃহস্থালি কাজের ফাকে পাহাড়ি পিঠাপলির পাশাপাশি বাড়িতে হরেক রকম নাস্তা তৈরি করে আমরা এখানে বিকিকিনি করি। তাতে করে দর্শনার্থীদের খাবারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আমাদের ভালো উপার্জন হয়।
নিউজিল্যান্ড বিল ঘুরে এসে অজিত বড়ুয়া, সুমন ত্রিপুরা ও তাসলিমা আক্তার জানান, নিউজিল্যান্ড বিলের পারিপার্শ্বিক মনোমুগ্ধকর গ্রামীণ পরিবেশ এবং ভ্রাম্যমাণ দোকানিদের আথিতেয়তায় আমরা মুগ্ধ।
তাছাড়াও এখানে পড়ন্ত বিকেলে গ্রাম-বাংলার চিরচেনা রূপ ভেসে উঠে। তাই উপজেলার আশেপাশে কোথাও তেমন কোনো বিনোদন কেন্দ্র না থাকায় নিউজিল্যান্ড খ্যাত তারাবনিয়া বিলের মনোরম পরিবেশ এবং পাহাড়ি পিঠাপলিসহ সুস্বাদু হরেক রকম খাবারের টানে এখানে প্রতিদিন পড়ন্ত বিকেলে অসংখ্য দর্শনার্থী ছুটে আসেন বলে জানান তারা। এ বিলের বুকচিরে বয়ে যাওয়া পিচঢালা মেঠোপথের দুপাশে সোনালো কিংবা কৃষ্ণচূড়া ফুলের গাছ রোপণ করা হলে এই নিউজিল্যান্ড বিলই হতে পারে উপজেলার একমাত্র দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থান এমনটাই মনে করছেন দর্শনার্থী অনেকে।
পূর্বকোণ/পিবি
















